জেনারেল থেকে উঠে আসা একটি ছেলের প্রাকটিসিং মুসলিম হওয়া

43


জেনারেল থেকে উঠে আসা একটি ছেলের প্রাকটিসিং মুসলিম হওয়া অনেক বড় ব্যাপার মনে হয়। প্রথম বাঁধা আসে পরিবার থেকে। কেমন যেন সন্দেহ, ছেলে বুঝি জঙ্গি হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মিডিয়া অনেকটাই সফল, প্রথম প্রথম কেউ ইসলামকে ভালভাবে মানতে গেলে জঙ্গি তকমা লাগিয়ে দেয়।


ছেলেটির দাড়ি বড় হতে থাকে আর চারপাশ থেকে প্রেশার আসতে থাকে। এত ছোট বয়সে কেন দাড়ি রাখছো? দাড়ি যখন ছোট ছিল, বলতো, ছোট করে দাড়ি রাখছো কেন শিবির শিবির লাগে। যখন বড় হলো শুনলাম এত ছোট বয়সে দাড়ি বড় করলা? এখন ছোট রাখো, বিয়ে হয় কিনা কে জানে?? টাকনুর উপরে প্যান্ট পড়াতে ক্ষ্যাত তকমা লাগতে পারে।

আপনি ইসলামে প্রবেশের সাথে সাথে চারপাশটা অনেকখানি সংকীর্ণ হয়ে যাবে। বন্ধুরা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখবে, মেয়েদের থেকে এড়িয়ে চলাটা গেয়ো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও একটা ভ্রু কুঁচকানো ব্যবহার পাবেন।

এসময়ে ভেতর থেকে আলাদা একটা হেদায়েতের পরশ পাবেন। আশেপাশের কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়তে লড়তে ভেতরের ঈমান শক্ত হবে। (তবে অনেকেরই এ সময়ে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে গিয়ে ঈমান দূর্বল হয়ে ভেঙে যায়।) আল্লাহ আপনাকে প্রশস্ততা দান করবেন। আপনার চারপাশে ইসলামকে মানে এমন অনেককেই পেয়ে যাবেন।

যেহেতু এ সময়ে পরিবারের কেউ প্রাক্টিসিং না, আপনাকে পরিবারের বিশেষ সময়গুলো ধৈর্য ও কৌশলের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। টিভি দেখা, গান শুনা, হলুদ জন্মদিনের অনুষ্ঠানগুলোতে এভয়েড করে চলা যথেষ্ট কঠিন কাজ। কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য পরিবারের সদস্যগণ আপনার এই ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং আপনার কোমল ব্যবহার ও বুঝানোতে হয়ত কেউ কেউ ইসলামকে মানার চেষ্টা করতে পারে।

চাকরির বাজারে এসে আপনি বিশাল শূন্যতার মধ্যে পরবেন। আপনি আগের থেকে প্রাকটিসিং হলে কিছুটা ভাল, কিন্তু চাকরিতে এসে প্রাকটিসিং হলে আবার সঙ্কীর্নতায় পরতে হবে। এতদিনের জব ফিল্ড পরিবর্তন করে নতুন হালাল রিযিকের সন্ধান করা ঈমানের প্রতি বিশাল ধাক্কা। আপনি এতদিনের জীবন যাত্রার মান নামাতে পারবেন না, আবার চাহিদা ভিত্তিক হালাল চাকরিও পাবেন না। জীবন যেন দুঃসহ হয়ে যাচ্ছে। নতুন এ পরিবর্তন পরিবারের মানুষও ভালভাবে নিবে না।। আপনি ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসা করে হালাল রিযিকের চেষ্টা করতে থাকলেন। কোন সম্ভাবনা না দেখলেও আল্লাহ বিশেষ জায়গা থেকে হালাল উত্তম রিযিকের ব্যবস্থা করে দিবেন।

আপনি নিজেকে কিছুটা গুছালেও পরিবার বন্ধুদের জন্য সবসময় মন ছটফট করতে থাকে। আপনি দোয়া করছেন, সেই সাথে দাওয়াহ-র কাজও বিভিন্নভাবে করে যাচ্ছেন। আপনার স্বপ্ন কোন একদিন ফজরের জন্য ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার আগেই আপনার বাবা ভাই ছেলে ওজু করে রেডি হয়ে আছেন মসজিদে যাবে, মা বোন কন্যা নামাজ পড়ছেন।

আপনি ফজরের নামাজের জন্য ইমামের পেছনে দাড়িয়েছেন। আজ যেন অনেক সুমধুর লাগছে নামাজে কুরআন তিলাওয়াত। ভেতর থেকে কান্না চেপে আসছে। কত বছরের স্বপ্ন পরিবারের সবাই নামাজ পড়বে। বাবা ভাই সন্তান মসজিদে পাশাপাশি দাড়িয়ে ফজরে দীর্ঘ কুরআন তিলাওয়াত শুনবে। নামাজ শেষ হলো। বুক ভরা নিঃশাসে নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। কত বছরের দোয়া স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিলো।।

এমনই আরেকটি সকালের অপেক্ষায় আছি। সেই সকাল হবে আরাফার ময়দানে। পরিবারের সব সদস্য যেন হজ্জ করতে পারেন।। আল্লাহ তুমি কবুল করো। আরাফার ময়দানে নিঃশাস নেয়ার মত সৌভাগ্য দান করো।
আমীন।।

Facebook Comments