প্রথম অতিথির কথা তো শুনলেন, এবার আমাদের দ্বিতীয় অতিথি কথা বলি যিনি হচ্ছেন প্রসাধনী দোকানের একজন মহিলা কর্মচারী। এই অতিথির ইসলামিক লাইফ-স্টাইল আমাকে এতই অনুপ্রাণিত করেছে, শিক্ষণীয় ব্যাপারগুলো এই লেখায় উল্লেখ করতে বাধ্য হলাম।

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাঃ
অনেক দিন পরে সেই প্রসাধনী দোকানে যাওয়ার পর উনি আমাকে তাঁর খুশির সংবাদটি জানালেন যে তিনি মুসলিম হয়ে গেছেন, আল্লাহু আকবার। তিনি বললেন “বাবা মা তাকে অনেক বাঁধা দেন এ ব্যাপারে, কিন্তু সত্যটা উপলব্ধি করার পর থেকে সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য তাঁর এই পরিবর্তন, আর বললেন জান্নাত পাওয়ার জন্য না হয় পরিবারের অবাধ্য হলাম, কিন্তু পরিবারকে তো আর ছেড়ে দেয়নি”। বাহ! কি সুন্দর ভাবনা।

ইসলামিক শিষ্ঠাচারঃ
আমি উৎসুক হয়ে তাকে জিজ্ঞাস করলাম “আপনি যে মাথায় কাপড় (হিজাব) দিয়ে রাখেন, অস্বস্তি লাগে না?” তিনি খুব সুন্দর বললেন “আল্লাহর হুকুম তো আর অমান্য করা যাবেনা, আল্লাহকে খুশি করার জন্য সব করতে পারব।” তারপর জানলাম তিনি নামায শিখেছেন, পাশাপাশি কুরআন পড়াও শিখছেন এবং চলাফেরাও একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেছে দেখলাম। মাশাআল্লাহ।

নামাযের গুরুত্বঃ
আর একদিন যখন গেলাম, তিনি আমাকে দেখে বললেন “আপু আপনার কাজে হাত দিতে একটু দেরী হবে, কারণ আমি এখনও নামায পড়িনি, তাই নামাযটা পরে তারপর আপনার কাজটা ধরব”। শিক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যারা লাখ টাকা অর্জন করি তারাও হয়ত নিজের কাজ ফেলে পাঁচ মিনিটের জন্য নামাযে যায়না, আর দেখুন নামমাত্র টাকা সম্মানী পাওয়া এই কর্মচারী নামাযের গুরুত্ব। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে তাই বলেছেনঃ

“বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর পথে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না”। [সূরা তাওবাহ]

রমযান মাসের মর্যাদাঃ
এরপর রোযার শুরুতে যখন দেখা হল; তখন উনাকে বললাম “আপনার সারাদিন না খেয়ে রোযা রাখতে কষ্ট হবেনা”, তিনি বললেন “আল্লাহর রহমতে হবে না, আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবেন”।

আমি তাঁর এসব কথা ভাবলে আজও অবাক হয়। নতুন মুসলিম হয়েও ইসলামের বিধানগুলোর প্রতি তাঁর এত সম্মান, আমাকে আজও নতুন ভাবে অনুপ্রাণিত করে।

আমরা মুসলিমরা অনেক আর্থিক সুবিধা ভোগ করি – এক্সট্রা বোনাস, ছুটি আরও কত কি। আর দেখুন কোনও বিশেষ সুবিধার জন্য এই কর্মচারী বা প্রথম পর্বের আপু মুসলিম হননি, শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যই লক্ষ্য করা যায় দুজনের প্রত্যেকটি ব্যাপারে।

আমরা যারা জন্ম থেকে মুসলিমের ট্যাগ লাগিয়ে শুধু বসে আছি, এসব নতুন অতিথির চেয়ে আল্লাহর কাছে আমাদের স্থান যে কত নিচে ভাবতেও লজ্জা লাগে। তাই আসুন আর দেরী না করে এখনি জীবনকে পরিবর্তন করে ফেলি, এবং আল্লাহকে খুশি করার জন্য চেষ্টা করতে থাকি। আর এটাইতো হওয়া উচিৎ একজন মুসলিমের জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য।

Facebook Comments