নবিজীর (সা:) প্যারেন্টিংঃ বাচ্চাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া

38
ছোটোবেলায় আমরা মীনা-রাজুর কার্টুন দেখেছি। তাদের একটা পোষাপাখি ছিলো। নাম মিঠু। মাঝেমধ্যে মিঠু হারিয়ে গেলে ভাই-বোন হন্য হয়ে মিঠুকে খুঁজতো।
একটা ছোটো বালক তার খেলনার কারটি হারালে যতোটা কষ্ট পায়, একজন বড়ো মানুষ তার দামী কারটি চুরি হলেও এতোটা কষ্ট পায় না। ছোটো বালকটির কাছে ঐ কারটি তার সবকিছু। এটা দিয়ে সে খেলাধুলো করে, সে মনে করে এটা আঁকড়ে ধরেই সে বেঁচে থাকবে।
ছোটোবেলায় আমাদের পছন্দের জিনিসগুলো হারিয়ে গেলে, খেলার বল হারিয়ে গেলে, লাঠিম হারিয়ে গেলে আমাদের গার্জিয়ানরা কী বলতেন? ‘ভালো হয়েছে, আরো বেশি বেশি খেলো এগুলো নিয়ে। সারাদিন কাজ নাই আছো শুধু বল নিয়ে’। এই কথাগুলো যেনো আমাদের কাঁটাগায়ে নুনের মতো লাগতো।
আচ্ছা, নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলে কী করতেন? তিনিও কী বলতেন, “ভালো হইছে, ভালো হইছে”? নাকি আমাদেরকে সান্ত্বনা দিতেন?
আসুন, আনাস ইবনে মালিককে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করি। দেখি তিনি কী বলেন।
“নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে প্রায়ই আসতেন। আমার একটা ছোটো ভাই ছিলো। তার ডাকনাম ‘আবু উমাইর’। তার একটা পাখি (বুলবুলি) ছিলো। পাখিটির নাম নুগাইর। পাখিটি নিয়ে সে খেলতো। একদিন নুগাইর মারা যায়। আমার ভাইটি খুব মন খারাপ করে। তাকে মর্মাহত দেখে নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ায় সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তার কী হয়েছে?’ তাঁকে বলা হলো, নুগাইর পাখিটি মারা গেছে।”
এতোটুকু বলে একটু থামতে চাই। একজন নবী, যাকে আল্লাহ হেদায়াতের বার্তা দিয়ে মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন, তিনি যেন মানুষকে সতর্ক করেন। এক ছোটো বাচ্চার একটা পাখি মারা গেছে, এরকম ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে তাঁর সময় নষ্ট করার সময় আছে?
তিনি বাচ্চাকে বলতে পারতেন- “পাখি তো মরে গেছে। ঐটা দিয়ে কী করবা? আর আমরা দুনিয়াতে একটা পাখির শোকে কান্না করতে আসছি নাকি? যাও নামাজ পড়ো গিয়ে।”
না, তিনি এমনটা বলেননি। তিনি তো ছিলেন রাহমাতাল্লিল আলামিন। আমাদের নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছোট্ট বালকের মনোবেদনা বুঝতে পারেন। এজন্য এই ছোট্ট বালকের এই ছোট্ট বিষয় নিয়েও তাকে ইমোশনাল সাপোর্ট দেন।
তিনি পাখি আর পাখিওয়ালার নামের ছন্দ মিলিয়ে বলতেন- “ইয়া আবা উমাইর! মা ফা’আলান নুগাইর?” অর্থাৎ, “ও আবু উমাইর! তোমার নুগাইরের কী হলো?”
[সহীহ বুখারী: ৬১২৯, সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৬৯]
নবিজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই ছোট্ট কথাটির ইমোশনাল এটাচমেন্টটা একটু লক্ষ্য করুন। বালকটি যখন বড়ো হবে, তাকে কেউ শেখানো লাগবে? নবীকে ভালোবাসতে হবে, এটা ঈমানের একটা পার্ট। বরং সে আপনা-আপনি নবীকে ভালোবাসবে। কারণ, নবিজী (সাল্লালালহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছোটোবেলায় তার দুঃখের কথা বুঝতে পেরেছিলেন, তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন।
ধরুন, ছোটোবেলায় সাইকেল চালাতে গিয়ে হাতে-পায়ে ব্যাথা পেয়ে বাসায় ফিরতাম, আর ঘরে ফিরে বাবার হাতে মার খেতাম। একটু পর যখন শুনবো, বাবা মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করেছেন, তখন বাবার কষ্টে কি আমিও কান্না করবো? নাকি বলবো, একটু আগে বাবা আমাকে মারছেন, এখন আল্লাহ তাকে শাস্তি দিয়েছেন?
বাচ্চাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া নবিজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত।
——
|| নবিজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ায় সাল্লাম) প্যারেন্টিং (দ্বিতীয় পর্ব) ||
– আরিফুল ইসলাম
২৪ মে ২০২০
#নবিজীর_প্যারেন্টিং
Facebook Comments