আমাদের দুইটি নতুন অতিথির প্রানের স্পন্দন নিয়ে দুই পর্বের লেখা, আপনাদের হয়ত মনে হতে পারে সদ্য জন্ম নেওয়া কারও কথা বলছি। অবশ্য তা বললেও ভুল হবেনা; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন “কেউ যখন মুসলিম হয় তাঁর সমস্ত পূর্বের গুনাহ গুলো মাফ করে দেওয়া হয়, এবং সে একজন নবজাতক শিশুর মত হয়ে যায়”।

প্রথম অতিথি হচ্ছেন এক শিক্ষিকা; যিনি আমার বোনকে পড়াতে আসতেন, সেই সুবাদে মাঝে মাঝে তার মুখে ইসলামের ব্যাপারে তাঁর ভাল ধারণার কথা শুনতাম, ভাল লাগত। বুঝতে পারলাম মুসলিমদের ইবাদতের ধরণগুলো উনার হৃদয়ে ইসলামের আলো জাগাতে শুরু করতে থাকে। অবাক কাণ্ড তাই না! আমরা মুসলিমরাও হয়ত পরিবেশ থেকে এভাবে ভাল শিক্ষা গুলো চোখ মেলে দেখিনা।

আর এর প্রভাবে তিনি মুসলিম হওয়ার আগেই কুরআন থেকে সুরা ফাতিহা, ইখলাস ইত্যাদি মুখস্থ করে ফেলেন। পরবর্তীতে নামাযের নিয়ম-কানন দেখা শুরু করলেন এবং পাশাপাশি তাঁর মাকে বোঝানো শুরু করলেন ইসলামের ব্যাপারে তাঁর সুন্দর ধারণার কথা। অনেক পারিবারিক বাধা বিপত্তির মধ্যেও তিনি তাঁর এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্যে মুসলিম হয়ে; বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। দেখুন সদিচ্ছা থাকলে কিভাবে আল্লাহ মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দেন। সুবহানাল্লাহ।

মুসলিম তো হলেন তবে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় যে বিষয়টি তা হলো; উনার ঈমান ধরে রাখার প্রচেষ্টা। আর আমি তা বুঝতে পারলাম যখন তিনি আমাকে একদিন বলতে লাগলেন “আপু আমাকে বলবেন কিভাবে আমার ঈমানটাকে ধরে রাখতে পারব, আর আল্লাহর রহমত বেশি বেশি পাব…”। আমি শুধু অবাক হয়ে কথা গুলো শুনতে লাগলাম। আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি; জন্মসূত্রে পাওয়া এই ঈমানের চর্চা, রক্ষণাবেক্ষণ, বৃদ্ধি কিভাবে করা যায়?

আমরা যারা মুসলিম তারা হয়ত মনে করতে পারি আমাদের মৃত্যুও হবে ঈমানের উপর; আর জান্নাতে তো একদিন যাবই। হ্যাঁ, আশা রাখা ভাল তবে তার জন্য কাজ ও করতে হয়। কারণ মনে রাখবেন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে হলে কিন্তু সময়মত স্টাডি করতে হয়।

ঠিক একইভাবে ঈমানের পরীক্ষায় পাশ করতে হলেও আমাদের এই ঈমান বৃদ্ধির চর্চায় লেগে থাকতে হবে; যার জন্য কুরআন বুঝে পড়া, হাদিস দেখা, ইসলামিক বই পড়া, স্কলারসদের লেকচার শোনা ও ডিসকাশনে অংশগ্রহণ করা এবং পারিবারিক আলোচনা ও ভাল বন্ধু নির্বাচন ইত্যাদিতে ফোকাস করতে হবে, যা আমাদের আল্লাহর স্মরণে সাহায্য করবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন আমাদের প্রকৃত ঈমানের অধিকারী এবং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করার সুযোগ দেন, আমিন। আর তাই তিনি কুরআনে আমাদের বলেছেন সর্বদা তাঁর স্মরণ করতেঃ “নিশ্চয়ই, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়” [সূরা রা’দঃ আয়াত ২৮]
===========
লেখক – উম্মে সাদিয়া

ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী লেখায় আমাদের “দ্বিতীয় অতিথির ইসলামিক লাইফস্টাইল” নিয়ে লিখব, আশা করি সঙ্গে থাকবেন।

Facebook Comments