প্রান্তিকতার মাঝখানে নারীর অধিকার

37

যারা মেয়ে/নারীদেরকে ‘গৃহবন্দী’ করতে চান এবং যারা সম-অধিকারের নামে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসতে চান, এই দুই প্রান্তিক গোষ্ঠির জন্য লেখাটি। লেখাটি একটূ বড়ো। আগেও টাইমলাইনে পোস্ট করেছিলাম। যারা পড়েছেন, তারা স্কিপ করে যান।



আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) স্ত্রী রা’ঈতা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নিজের হাতে বানানো জিনিসগুলো বিক্রি করে উপার্জন করতেন। তাঁর সমস্ত উপার্জন পরিবারের পেছনে ব্যয় হতো। যার ফলে তিনি অতিরিক্ত কিছু সাদকা করতে পারতেন না। এটা নিয়ে তাঁর আফসোস ছিলো।

একদিন তিনি রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গিয়ে বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যা উপার্জন করি সবই তো আমার পরিবারের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। আমি সাদকা করতে পারি না। আমি কি এরজন্য সওয়াব পাবো?” রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “পরিবারের পেছনে ব্যয় করো, তুমি সাদকার সওয়াব পাবে।” [মুসনাদে আহমাদঃ ৩/৬৬০-৬৬১]

এর আগে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষ সাহাবীদেরকেও একই নসীহত করেছিলেন। তিনি বলেনঃ “কোনো মুসলিম যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার পরিবারের পেছনে ব্যয় করে, সেটাও তার জন্য সাদকাহ হবে।” [সহীহ বুখারীঃ ৪০০৬]

একজন মহিলা হয়ে পরিবারের জন্য উপার্জন করাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাঁকা চোখে দেখেননি। সাহাবীর স্ত্রী পরিবারের জন্য উপার্জন করছেন, এটা দেখে বাকিরা হা-হুতাশ করেননি।

ইমাম মালিকের (রাহিমাহুল্লাহ) একজন শিক্ষিকা ছিলেন আমরা’হ বিনতে আব্দুর রহমান, ইমাম আশ-শাফে’ঈর (রাহিমাহুল্লাহ) একজন শিক্ষিকা ছিলেন নাফিসা বিনতে হাসান। হাফিজ ইবনে আসাকির (রাহিমাহুল্লাহ) আশিজনের বেশি শিক্ষিকার কাছে হাদীস শিখেন, ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) তিনজন শিক্ষিকার কাছে। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর (রাহিমাহুল্লাহ) শিক্ষিকা ছিলেন আয়িশা বিনতে আব্দুল হাদী। বিখ্যাত তাবে’ঈ মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রাহিমাহুল্লাহ) কোনো প্রশ্নের উত্তরে আঁটকে গেলে তাঁর বোন হাফসা বিনতে সিরিনের দ্বারস্থ হতেন।

আজকের মতো তখনকার সময়ে সবার হাতে-হাতে ‘সহীহ বুখারী’ ছিলো না। সহীহ বুখারীর দুর্লভ একটা কপি ছিলো কারিমা বিনতে আহমাদের কাছে। তিনি সেটা থেকে তাঁর ছাত্রদেরকে পড়াতেন। বুখারীর কোনো হাদীসের মূল টেক্সট চেক করার হলে কারিমার কাছে গিয়ে চেক করা হতো।

ক্লাসিক্যাল এই উদাহরণগুলো আমাদেরকে বলে দেয় ইসলামের স্বর্ণযুগে জ্ঞানের শাখাগুলোতে নারীদের পদচারণার কথা। এরকম আরো শতো-শতো উদাহরণ আছে। এখনকার সময়ের ফেমিনিস্টদের বাড়াবাড়ি আর আরেক দলের মারামারিতে এই ঘটনাগুলো ‘ভাসুর’ –এর মতো। দুই দলের কেউই ঘটনাগুলো মুখে আনতে চায় না।

নারীবাদীরা চায় যেমনে করেই হোক না কেনো, নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে আনতেই হবে। অন্যদিকে আরেকদল কুর’আন-হাদীসের দোহাই দিয়ে কিভাবে নারীদেরকে ঘরে আঁটকে রাখা যায় এবং নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া যে সাফ নিষেধ, সেটা প্রমাণের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ সত্যের অবস্থান এই দুই প্রান্তিকতার মাঝখানে।

ইসলামের স্বর্ণযুগে সমাজের প্রায় আশি ভাগের মতো নারী ঘরে অবস্থান করতো। ঘরে অবস্থান করায় তারা হীনমন্যতায় ভোগেনি। বরং একজন মুজাহিদের মা, একজন মুহাদ্দিসকে গর্ভে ধারণ করাকে তারা গর্ব মনে করতো। মাজহাবের চার ইমামের প্রত্যেকের বাবা খুব ছোটোকালে অথবা জন্মের আগে ইন্তেকাল করেন। তাঁদেরকে যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম হিশেবে গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর ছিলেন তাঁদের মা।

ইমাম মালিকের (রাহিঃ) মা তাঁকে শিখিয়ে দেন কার কাছে গিয়ে ইলম অর্জন করতে হবে।

মাত্র বিশ বছর বয়সে বিধবা হওয়া ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ জীবনে আর বিয়ে না করে সন্তানকে একজন আলেম বানাবেন, এটাকেই ‘ক্যারিয়ার’ হিশেবেই নিয়ে নেন। দুই বছরের কোলের শিশুকে নিয়ে ফিলিস্তিন থেকে মক্কায় যান। যাতে করে শ্রেষ্ঠ আলেমদের কাছ থেকে ছেলে ইলম শিখতে পারে। ছেলের লেখালেখির জন্য সরকারি অফিস থেকে খাতাপত্র যোগাড় করে দেন। ছেলের শিক্ষকদের বেতনের টাকা যোগাড় করার জন্য কাজ করেন। সেই ছেলেকে সারাবিশ্ব এখন এক নামে চিনে- ইমাম আশ-শাফে’ঈ (রাহিঃ)।

দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেবার জন্য এক মা তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের দু’আর ফলে আল্লাহ তাঁর ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। সেই ছেলেটির নাম শুনেনি এমন কোনো মুসলিম হয়তোবা পৃথিবীতে নেই। সেই ছেলেটি হলেন ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)।

ইসলামের স্বর্ণযুগে স্ত্রীর ভূমিকা, মায়ের ভূমিকা পালন করা গর্বিত আশি পার্সেন্ট নারীর পাশাপাশি আরো বিশ পার্সেন্ট নারী ছিলেন যারা নিজেরাই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। কলিজার টুকরো ছেলের হত্যাকারী জালিম হাজ্জাজের সামনে আসমা বিনতে আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছুরির মতো ধারালো কথাগুলো হাদীসের বইতে লিপিবদ্ধ আছে। হাদীস শেখা আর শেখানোর ক্ষেত্রে নারীদের কৃতিত্বের কথাগুলো ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে।

তারা কেউই পর্দার বাইরে গিয়ে ইলম শিখেননি, ইলম শেখাননি। ফেতনার ভয়ে এই বিশ পার্সেন্ট নারী ইলম অর্জন থেকে বিরত থাকেননি। বরং তাঁদের কাছ থেকে যারা ইলম সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের সেইসব ছাত্রদেরকে আমরা ‘ইমাম-আলেম’ বলে সম্মান করি।

কুর’আন-হাদীসের টেক্সট আর সমাজের মেজোরিটি (আশি পার্সেন্ট) নারীদের উদাহরণ দেখিয়ে বাকি বিশ পার্সেন্টকে ঘরের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে পথ দেখানো হয়েছে, তাঁদেরকে সহযোগীতা করে কষ্ট কমানো হয়েছে। ‘নারী’ বলে তাঁদেরকে অবহেলা করা হয়নি। তাঁদের ইলম অর্জন এবং শিক্ষাদানে বাধা দেওয়া হয়নি।

ইমাম আশ-শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ “উলামায়ে কেরামের কারো পক্ষ থেকে এমন কথা পাওয়া যায় না যে, তিনি কোনো নারীর বর্ণনাকে ‘নারী’ হবার কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন বহু হাদীস রয়েছে যা একজন নারী বর্ণনা করেছেন আর গোটা উম্মত তা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছে। ইলমে হাদীসে যার সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে একথা অস্বীকার করতে পারবেন না।”

নারীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ না নিয়ে তাদেরকে ঘরের দিকে শুধু ‘পুস’ করাটা একটা পরাজিত মানসিকতা ছাড়া আর কিছু না। দেশে এমন কোনো সেক্টর নাই যেখানে ফিতনার কোনো আশঙ্কা নাই। প্রায় সবগুলো সেক্টরে যেখানেই নারীদের জন্য ফিতনা আছে, সেখানে পুরুষদের জন্যও ফিতনা।

একটা মেয়েকে ভালো একটা মাদ্রাসায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন না ফিতনার আশঙ্কায়।
কিন্তু ছেলেকে ঠিকই সেখানে ভর্তি করানো হচ্ছে। যে জায়গাটি মেয়ের জন্য ফিতনা, সেই জায়গাটি কি ছেলেটার জন্যও ফিতনা না? জাল হাদীসের ফযিলত শুনে বিদ্যা অর্জনের জন্য ছেলেকে চীনে পাঠাচ্ছেন, আর নারীদের ফিতনার আশঙ্কায় মসজিদে তালা ঝুলাচ্ছেন।

ফিতনার নামে যে ডিস্ক্রিমিনেশন হচ্ছে, সেদিকে কোনো নজর নাই। হ্যাঁ, ফিত্নাটি এড়িয়ে যাবার কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু মেয়েকে ফিতনার নামে কেনো আটকানো হচ্ছে আর ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে?

বোন, স্ত্রীর অপারেশনের জন্য সবাই একজন মহিলা ডাক্তার খুঁজে। কিন্তু, একটা মেয়েকে ডাক্তার বানানোর জন্য এলাকায়-এলাকায় ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, ওমেন্স হসপিটাল চালু করা, স্পন্সর করার বেলায় উদ্যোগ নিতে খুব কমই দেখা যায়। একটা এলাকায় মহিলা মাদ্রাসার পাশাপাশি ওমেন্স মেডিকেল কলেজ বানানো হলো ঐ এলাকায় সত্যিকার ইসলাম কায়েমের একটা পদক্ষেপ।

‘ছবি তোলা হারাম’ এই ফতোয়াটি মাইক ফাটিয়ে যতোই দেন না কেনো, হজ্জ্ব-উমরাহ করতে হলেও অন্তত আপনার ছবি তোলা লাগবে, আপনার মা-বোন-বউয়ের ছবি তোলা লাগবে। আপনার বোন-বউকে কোনোদিন বাইরের কোনো পুরুষ দেখেনি। পাসপোর্ট-ভিসা প্রদর্শন করতে যদি কোনো পুরুষ আপনার বোন-বউকে দেখতে চায়, জরুরতের স্বার্থে আপনি সেটা সেক্রিফাইস করেন। জরুরতের প্রশ্নে ইসলামের দলিল দিয়ে এটা জায়েজ প্রমাণ করেন। ঠিকাছে।

কিন্তু, জেডিসি, দাখিল পরীক্ষার এডমিট কার্ডের জন্য যেই স্টুডিওতে আপনার বোন, মেয়ের ছবি তোলা হয়, সেই ফটোগ্রাফার যে হাত দিয়ে দেখাচ্ছে –‘আপু এইদিকে একটু সরুন’ তখন পর্দার কী অবস্থা? ছবি তোলার পর যে সে আপনার মেয়ের ছবিটা মনমতো এডিটিং করছে, ব্রাশ করছে, প্রয়োজনে লুকিয়ে ছবিটি রেখে দিচ্ছে, তখন খুব পর্দা করা হচ্ছে, তাই না?

অথচ এখানেও উদ্যোগ নিয়ে এই ক্ষতিটা কিছুটা কমানো যেতো। ছবি আপনাকে তুলতেই হবে। পর্দার বিধান রক্ষার স্বার্থে শুধুমাত্র মেয়েদের দ্বারা পরিচালিত স্টুডিও খুলে হোক কিংবা আপনার ইজতিহাদের অন্য যেকোনো পদ্ধতিতে হোক, একজন ছেলে ফটোগ্রাফারের চোখের যিনা থেকে আপনার মেয়েকে রক্ষা করতে পারতেন।

‘নারীদের কী করা উচিত’ এটা নিয়ে আপনি সারাদিন মুখের ওয়াজ করছেন। কিন্তু, স্বামীরা কেন বউদেরকে মোহরানা দিচ্ছে না, বাপ-ভাই কেন মেয়ে-বোনকে সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ দিচ্ছে না এটা নিয়ে উমরের (রাঃ) মতো আপনার হাতে লাঠি উঠে না? এইসব আপন জালিমদের কাছ থেকে নারীদের অধিকার আদায়ের কথা বলতে আপনার সাহসে কুলোয় না?

ধর্ষকের ধর্ষণ থেকে এগিয়ে গিয়ে একজন নারীকে বাঁচানোর হিম্মত আপনার নাই। নিরব থেকে ধর্ষণের দর্শক হবার পর আপনি ধর্ষিতা নারীর পোষাক কী ছিলো সেই আলাপে মেতে উঠছেন! তাহলে কবি আসাদ বিন হাফিজের কবিতাটি একটু পড়ে নিন।

“একজন মুসলিম মহিলার ইজ্জতের উপর হামলা হয়েছে-
এ খবর শোনার পর যে জাতির সতের বছরের যুবক মুহাম্মাদ
সুদূর আরব থেকে ছুটে এসে জয় করেছিল বিশাল ভারত
সে জাতির লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনের পরও
তাঁর যে ভাইদের চেতনায় ঢেউ জাগে না
তাদের মুসলিম বলে স্বীকৃতি দেয় কোন শালা?”

অন্যদিকে নারীদের অধিকার আদায়ের নামে সমাজে কিছু নারীবাদী আছে। এগুলোর নোংরা যুক্তি শুনলে তর্ক করার আর আগ্রহ থাকে না। তারা বলে- একটা ছেলে যদি সিগারেট ধরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে পারে, একটা মেয়ে কেনো পারবে না? একটা ছেলে যদি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে পারে, একটা মেয়ে কেনো পারবে না?

এটা কোনো যুক্তি হলো? একদিকে এরা বলবে পরিবেশের সুরক্ষার কথা, আরেকদিকে বলবে রাস্তায় প্রসাবের অধিকারের কথা। যেন মেয়েরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রসাব করতে পারলেই তাদের অধিকার আদায় হয়ে যাবে। সিগারেট খেলেই যেন মেয়েরা অধিকার সচেতন হয়ে যাবে। এসব নোংরামি যুক্তি নিয়ে তারা ঘুরে কিভাবে!?

ঐদিকে আরেকদল কোনো উদ্যোগ না নিয়ে সন্ধ্যা হলে গৃহিণী মুরগি যেভাবে ঘরে ঢুকানোর চেষ্টা করেন, তেমনি তারা কিভাবে নারীদেরকে ঘরে ঢুকানো যায় সেই চেষ্টা করতে থাকেন।

এই দুই চরমপন্থার মাঝখানে ইসলাম দিয়েছে সমাধান। পুরুষকে বলেছে- “পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক (কর্তা), তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” অন্যদিকে নারীকে বলা হয়েছে- “নারী তার স্বামীর সংসারের কর্ত্রী। তাকে তার অধীনস্থদের (সন্তান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” [সহীহ বুখারীঃ ৮৯৩]

ইসলামে পরিবারে রুজি করে খাওয়ানোর দায়িত্ব দিয়েছে পুরুষকে, ঘরের দায়িত্ব দিয়েছে নারীকে। আরেকটা হাদীসে এসেছে- নারী যদি সময়মতো নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে [মুসনাদে আহমাদঃ ১৬৬১]।

অন্যদিকে নারী যদি শিখতে চায়, পড়তে চায়, সেই দায়িত্বটাকে পুরুষকে নিতে বলা হয়েছে। পুরুষ অর্থাৎ বাবা, ভাই যেন সেই সুযোগটা করে দেয়। নারীকে সুশিক্ষায় গড়ে তুললে পুরুষকে দ্বিগুণ সওয়াব দেবার ঘোষণা করা হয়েছে [সহীহ বুখারীঃ ৯৭]।

ইসলামের প্রাপ্য অর্থনৈতিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা থেকে যদি নারীকে বঞ্চিত রাখা হয় আর সেই নারী যদি নারীবাদীদের নোংরা ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে অধিকার আদায়ের কথা বলে, আমি অবাক হবো না।

নারীদের কর্তব্যগুলো বলে দেবার পাশাপাশি তাদের অধিকারগুলোও তাদের হাতে তুলে দিন। সেটা আপনার দেওয়া গিফট না, তাদের প্রাপ্য।

——
|| প্রান্তিকতার মাঝখানে নারীর অধিকার ||
– আরিফুল ইসলাম
২১ এপ্রিল ২০২০

ফিচার ছবিটি বানিয়ে দিয়েছেন Khaled Hasan Arafat Khan ভাইয়া। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

Facebook Comments