প্রিয় বোন,একটু ভাবুন! -খাদিজাতুল কোবরা

38

সুস্থতা আর অবসর, নরম বিছানা ও নিরাপদ আবাস, পেটভরা আহারের নিয়ামত আপনার আছে।এবং গুনে শেষ করতে পারবেন না এমন অসংখ্য নিয়ামতে ডুবে থেকেও শুধুমাত্র ঘর থেকে বের হতে না পেরে আজ অভিযোগের শেষ নেই। যেখানে এর একটি নেয়ামত পাওয়ার জন্য প্রচুর মানুষ আকাঙ্ক্ষিত, সেখানে আপনি না চাইতেই এতোগুলো নিয়ামতের অধিকারী।
শেষ কবে মনের গভীর থেকে বলেছেন বলেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’?

পৃথিবীতে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে,স্রষ্টায় বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী হোন না কেন, মহামারীতে অবিশ্বাসী কেউ নেই। কোনো পর্দায় বিদ্বেষীকেই ঘরের বাইরে মুখে মাস্কহীন পাওয়া যাবেনা। মাস্ক পড়তে (মুখ ঢেকে পর্দা করতে যা একটি অতিপ্রচলিত অজুহাত ছিল) গরম লাগে এই অজুহাত কারো মুখেই শোনা যায়নি।

খাদ্য সংকট,অভাবীদের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় উপার্জনের সুযোগ বঞ্চিত মানুষ,এই অবস্থায় ও দানের খাবার চুরি হয়ে যায়। অসংখ্য পরিবারে খাবার মজা হয়নি কেন অভিযোগ! ভাবা যায়?!

কোন ভালো উপদেশ দিলেই এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অধিকাংশের উত্তর ছিলো সময় নেই। এখন এই অখণ্ড অবসরে মানুষ সময় কাটাতে পারছে না। ফেসবুকে ফালতু সব চ্যালেঞ্জ, ট্রল করে,গেম খেলে কোনোভাবেই যেনো খরচ করতে পারছে না।

তবুও,
তবুও একটিবারের জন্য তারা কুরআন খুলে দেখেনা। একটি হাদিসও তাদের জোর করে পড়ানো যায় না। একটি ভালো কথা কারো কাছে কুইনাইনের চেয়েও তেতো মনে হয়। এরাই ঘন্টার পর ঘণ্টা অহেতুক লাইভ দেখে নষ্ট করে যায়। হায়াতের নির্দিষ্ট সময়টুকু ক্ষয় করে নিতান্ত অবহেলায়। এই কঠিন পরিস্থিতিও যেনো তাদের বোধের উদয় হওয়ার উপযুক্ত নয়।

অথচ এই মহামূল্যবান সময়টা চলে যাচ্ছে ভেবে আমাদের চিন্তিত হওয়ার কথা,কাজে লাগানোর কথা। এতো কিছু পড়ার বাকি,শেখার বাকি,বাস্তব জীবনে আমল করার বাকি, অথচ দিন এতো দ্রুত ফুরিয়ে যায় কেন সেই হিসেবনিকেশ করার কথা।

প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদ থেকে কল্যাণের দিকে এসো আহ্বান শুনেও কানে অদৃশ্য তুলা গুঁজে উপেক্ষা করে গেছো,এখন যে আর চাইলেও মসজিদে সিজদায় লুটিয়ে পড়ার দরজা বন্ধ! কোনো কিছুই কি তোমাদের এই সজাগ ঘুম থেকে জাগাতে পারবে না?

মনের মাঝে আমাদের আমলের খাতা খুলে একটু ভাবা উচিত, সাওয়াবের পাল্লা ভারী করতে না পারলে অন্তত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা দরকার।
টিভি সিরিয়াল মানুষ এখন রিভিশন দেওয়ার মতো দেখছে, একটু ত থামো। চিন্তা করো কেন ঘরে বন্দী আছো? ঘরে থাকলে আর কোনোদিনই মরবে না বলে কোন গ্যারান্টি পেয়ে গেছো?

খবর এখন আর দেখার মতো নেই। এই সময়েও মানুষ মারামারি করছে, অথচ লাশ রাস্তায় পড়ে আছে মানুষ ভয়ে কাছেও যাচ্ছে না। ইউরোপে ডিভোর্সের হার বেড়ে গেছে,স্ত্রীর করোনা হলে স্বামী তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলছে, একই ব্যাপার অপর ক্ষেত্রেও।

এক সময় অবাক লাগতো হাশরের মাঠের হাদিসগুলো পড়ে,মা কিভাবে সন্তানকে ভুলে যেতে পারে? তাও কি সম্ভব?



আজকে আল্লাহ এই দুনিয়াতেই ইয়া নাফসীর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।

ভয় আমাদের আরেকটু সংযমী করুক। আল্লাহর দুয়ারে এখনো আমাদের বিনীত সমর্পিত হওয়ার সুযোগ আছে। মৃত্যুভয় আমাদের পরকালের পাথেয় গড়ে নেওয়ার উসিলা হোক। শেষরাত্রিতে আল্লাহর মায়াভরা আহ্বানে অবনত হয়ে সাড়া দিতে পারা সৌভাগ্যবানের কাতারে শামিল করে নিন।রবের সাথে একান্ত আলাপনের মুহূর্তে আমদের জন্যও দুয়া করুন। অপ্রস্তুত অবস্থায় নয়,আল্লাহ আমাদের তাওবা কবুল করে ঈমানের সাথে মৃত্যু নসীব করুন।

হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমাদের অন্তরকে দ্বীনের উপর মজবুত করে দাও।


Facebook Comments