রাসূল ﷺ এর জীবনের শেষ সময়…
.
এশার সময় তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়লেন। নড়াচড়া করার শক্তি পর্যন্ত ছিলো না। তিনি এরকম তীব্র অসুখে পড়লেন। তিনি অসুস্থ হলে অনেক ভারী হয়ে উঠতেন, যেন দশজনের মতো ভারী হতেন। আমরা অসুখে নড়াচড়া করতে না পারলেও কিছুটা চলতে পারি। কিন্তু তিনি একদমই পারলেন না।
.
তিনি নড়তে পারলেন না এবং একটা সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। অনেক সময় পর তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন। জ্ঞান ফিরেই তাৎক্ষণিক যেই একটি প্রশ্নটি প্রথম করলেন সেটা হলো, “লোকেরা কি নামাজ পড়ে ফেলেছে?”
.
উম্মুম মুমিনিন আয়েশা (রা.) বললেন, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তারা সকলেই আপনার জন্যে এখনও অপেক্ষা করছে। তারা এখনো আপনার ইমামতির আশা করছেন।
.
তিনি কুয়া থেকে পানি আনতে বললেন, শীতল স্বচ্ছ পানি। পানি আনা হলো। তিনি পানির কাছে গেলেন, ফ্রেশ হলেন, গোসল করলেন। এভাবে যখন গোসলের পর একটু শক্তি পেলেন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং মসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি আবারো জ্ঞান হারালেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি আবার জ্ঞান ফিরে পেলেন, প্রথম যে কথাটি মুখ দিয়ে বললেন সেটা: “মানুষজন কি নামাজ পড়ে ফেলেছে?”, “মানুষজন কি নামাজ পড়ে ফেলেছে?”, “মানুষজন কি নামাজ পড়ে ফেলেছে?”।
.
না, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তারা এখনো আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। আয়েশা (রা.) বললেন।
.
রাসূল ﷺ আবারো উঠে দাঁড়ালেন। ওযু করে আবারো উঠতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু পারলেন না, তিনি পড়ে গেলেন – তৃতীয়বারের মতো।
.
তিনি জ্ঞান ফিরেই আবার বললেন, “মানুষজন কি নামাজ পড়ে ফেলেছে?”
.
এবার তিনি আবু বকর (রা.)-কে নামাজের ইমামতির অনুমতি দিলেন। তিনি এশার নামাজ পড়ালেন। এরপর মাঝে তিনদিন তিনি নামাজের ইমামতি করালেন আল্লাহর রাসূলের উপস্থিতিতে। মোট ১৭ ওয়াক্ত নামাজ তিনি পড়িয়েছিলেন আল্লাহর রাসূল ﷺ জীবিত থাকাবস্থায়।
.
সোমবার। ফজরের সময়। আবু বকর (রা.) ফজরের নামাজের ইমামতি করছিলেন। হঠাৎ করে সামনে থেকে আয়িশা (রা.) এর ঘরের পর্দা খুলে গেলো। মসজিদের সাথে লাগোয়া ঘর থাকায় প্রথম কাতার থেকে আবু বকর (রা.) আল্লাহর রাসূল ﷺ কে দেখতে পেলেন। আবু বকর (রা.) সরে আসতে চাইলেন, যেন রাসূল ﷺ ইমামতি করতে পারেন। আনাস (রা.) বলেন আমরা আনন্দে তাঁর দিকে তাকালাম, তিনি হাসলেন, ইশারায় আবু বকর (রা.) কে না করলেন, নামাজ চালিয়ে যেতে বললেন। রাসূল ﷺ দেখলেন আবু বকর (রা.) তাঁর উম্মাহকে নামাজে পরিচালিত করছেন। রাসূল ﷺ এর জীবনের শেষদিনগুলোতে দেখলেন তাঁর উম্মাহ মসজিদে নামাজরত অবস্থায় রয়েছেন, ঐক্যবদ্ধভাবে।
.
একদম শেষ সময়ে, রাসূল ﷺ আয়িশা (রা) এর কুলে শুয়ে আছেন। ঘরে প্রবেশ করলেন আব্দুর রহমান (রা)। তিনি একটা মিসওয়াক নিয়ে ঢুকেছিলেন ঘরে। রাসূল ﷺ আব্দুর রহমান (রা) এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আয়িশা! তিনি বুঝতে পারলেন, বললেন, মিসওয়াক দিবো?
.
রাসূল ﷺ বললেন, হ্যাঁ।
.
হযরত আয়িশা (রা.) আব্দুর রহমান থেকে মিসওয়াক নিলেন, সেটাকে চিবিয়ে নরম করে দিলেন রাসূল ﷺ কে।
.
তিনি মিসওয়াক মুখে নিলেন, মিসওয়াক করলেন। একটু পর মাথা তুললেন, চোখ মেলে তাকালেন এবং পবিত্র মুখে কিছু বললেন। আয়িশা (রা.) বলেন তিনি বলেছিলেনঃ হে আল্লাহ, আপনি নবী, সিদ্দীক, শুহাদা এবং সালেহীনদের উপর দয়া করেছেন। اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَأَلْحِقْنِىْ بِالرَّفِيْقِ الأَعْلَى ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে রহম কর ও আমাকে সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে মিলিত কর’।
.
তিনি আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার আশা করলেন। দুনিয়াতেও তিনি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে মিলিত হতেন, শেষ মুহূর্তে মা আয়িশা (রা) এর বুকে শায়িত অবস্থায়ও আল্লাহর সাক্ষাৎ আশা করলেন এবং মা আয়িশা (রা) এর কোলে আল্লাহর সান্নিধ্যের জন্যে চলে যাওয়ার পূর্বে তাঁর জীবনের সর্বশেষ শব্দগুলি ছিলোঃ
.
আস সালাত! আস সালাত! আস সালাত! (তোমরা নামাজের ব্যাপারে সতর্ক থাক, তোমরা নামাজের ব্যাপারে যত্ন নাও, তোমরা নামাজের ব্যাপারে খেয়াল রাখ বিশেষভাবে)!
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
‘বুকিস পাবলিসার’ – থেকে নেয়া! (আল্লাহ্‌ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

Facebook Comments