সাজদাতুল তিলাওয়াহঃ অজানাকে জানা

29

কুরআনে কারিমে এমনকিছু আয়াত আছে—যেগুলো তিলাওয়াত করলে সেজদা দিতে হয়। সেজদা কীভাবে দিতে হয়, কেনো দিতে হয়—তা পরে জানব। প্রথমে আয়াতগুলোর ঠিকানা জেনে নিই—
• সূরা আরাফ, আয়াত নং ২০৬
• সূরা রা’দ, আয়াত নং ১৫
• সূরা নাহল, আয়াত নং ৪৯
• সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত নং ১০৯
• সূরা মারইয়াম, আয়াত নং ৫৮
• সূরা হাজ্ব, আয়াত নং ১৮
• সূরা ফুরকান, আয়াত নং ৬০
• সূরা নামল, আয়াত নং ২৫
• সূরা সাজদাহ, আয়াত নং ১৫
• সূরা সোয়াদ, আয়াত নং ২৪
• সূরা হা-মিম সাজদাহ, আয়াত নং ৩৭
• সূরা নাজম, আয়াত নং ৬২
• সূরা ইনশিকাক, আয়াত নং ২১
• সূরা আলাক, আয়াত নং ১৯


সেজদায়ে তিলাওয়াতের পদ্ধতি, প্রচলিত সেজদার মতই। দাঁড়ানো বা বসা থেকে “আল্লাহু আকবার” বলে সেজদায় গিয়ে তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” পড়ে পুনরায় “আল্লাহু আকবার” বলে সেজদা থেকে উঠে যাওয়া। ব্যস, একটি সেজদা মাত্র।

“সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা” ছাড়া আরও কিছু দু’আ হাদিসে বর্ণিত আছে—যেগুলো সেজদায় পড়া যায়। সুযোগ হলে অন্যসময় লেখব।

….
এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলে সেজদা দিতে হয় কেন?

প্রথম কারণ : নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা করেছেন। (সহিহ বুখারি–১০৬৭)

দ্বিতীয় কারণ : নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা দেওয়ার জন্য বলেছেন। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন– আদমসন্তান যখন সেজদার আয়াত পড়ে সেজদা করে—শয়তান তখন কাঁদতে কাঁদতে কেটে পড়ে এবং বলে– হায় দুর্ভোগ আমার! আদমসন্তানকে সেজদার আদেশ হয়েছে, ফলে সে সেজদা করে জান্নাত লাভ করেছে। আর আমাকে সেজদার আদেশ দেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু আমি অস্বীকৃতি জানিয়ে জাহান্নাম পেয়েছি। (সহিহ মুসলিম–১০৫২)

তৃতীয় কারণ : সাহাবায়ে কেরাম সেজদা করেছেন।রাবি’আ বর্ণনা করেন, উমার রাযি. জুমু’আর দিন মিম্বারে সূরা নাহল তিলাওয়াত করলেন। যখন সেজদার আয়াত (৪৯ নং আয়াত) তিলাওয়াত করেন, তখন মিম্বার থেকে নেমে আসেন। এবং সবাইকে নিয়ে সেজদা করেন। (সহিহ বুখারি–১০৭৭)

চতুর্থ কারণ : শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহ. সহ অন্যান্যরা বলেন– সেজদার আয়াতগুলোর দিকে লক্ষ করলে দেখবেন, কোনো আয়াতে সেজদা দেওয়ার আদেশ করা হয়েছে (যেমন : সূরা হা-মিম সাজদাহ, সূরা নাজম ও সূরা আলাকে)। কোনোটিতে সেজদার আদেশ দেওয়ার পরও সেজদা না করার কারণে তিরস্কার করা হয়েছে (যেমন : সূরা ফুরকান, নামল ও ইনশিকাকে) । অথবা কোনোটিতে আল্লাহপাকের সৃষ্ট জীবের সেজদা করার কথা বলা হয়েছে (যেমন : সূরা আ’রাফ, নাহল, রা’দ, বনি ইসরাঈল, মারইয়াম, হাজ্ব, সেজদাহ, সোয়াদ-এ) এসবকিছু পাঠকারীর সেজদা দেওয়ার আবশ্যকতা বোঝায়। আদেশ থাকলে তো স্পষ্ট। সরাসরি আদেশ না থাকলে বরং আদেশ অমান্যকারীর তিরস্কার থাকলে বোঝা যায়, তিলাওয়াত করলে সেজদা ত্যাগ করা যাবে না। আর সৃষ্ট জীবের সেজদা করার কথা উল্লেখ থাকলে বোঝা যায়, তাদের সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে। (আল ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু, ওহবাহ আয্ যুহাইলি কৃত–২/১১২৭)


কুরআনে কারিমের অলৌকিকত্ব চির ভাস্বর। কুরআন বুঝে পড়লে কঠিন হৃদয়ও ভক্তিতে নুয়ে আসে। এই সেজদার আয়াতগুলো কেউ যদি একটু বুঝেশুনে পড়ে, তাহলে এমনিতেই সেজদায় মাথা নত হয়ে আসবে। সূরা নামলে বলা হচ্ছে, //তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর।//
“তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন” এর আবেদন বুঝলে কে না সেজদা করবে?

//নিশ্চয় যারা তোমার পরওয়ারদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহঙ্কার করে না এবং স্মরণ করে তাঁর পবিত্র সত্তাকে; আর তাঁকেই সেজদা করে।// —আ’রাফের এ আয়াত পডে সেজদা না করে থাকা যাবে?

//কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যারা আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে// —সূরা আস সাজদাহর এই আয়াত পড়ে যে সেজদা করবে না—সে তো কুরআনের মর্ম অনুধাবনই করতে পারেনি!

এই রামাযানে, রামাযানের বাইরে অনেক তিলাওয়াত করেন তো—অনুগ্রহপূর্বক সাথেসাথে সেজদা করে নেবেন।

মনে রাখবেন—তিলাওয়াতকারীকে যেভাবে সেজদা দিতে হয়, তিলাওয়াত শ্রবণকারীও তেমনই সেজদা করতে হয়।

#মহিমান্বিত_কুরআনের_সান্নিধ্যে

Masrur Ahmed

ছবি কৃতজ্ঞতা : Hayder Ali ভাই 

Facebook Comments