সূরা মাউন ও আমাদের চারপাশ

30

৩০ পারার সূরা গুলোর প্রতি সবসময় একটু বেশি দূবর্লতা ও ভালবাসা কাজ করে হয়তো নামাজে প্রতিদিন পড়া হয় বলে নয়তো সূরা গুলো ছোট ও সহজ কিংবা শৈশবের প্রথম সারির মুখস্ত করা সূরা বলে অথবা উপরের সবগুলো কারণেই।

এখন থেকে চেষ্টা করবো মাঝে মাঝে ৩০ পারার প্রিয় কিছু সুরা নিয়ে এই অধমের অনূভুতি শেয়ার করতে এতে করে নিজেরও তাদাব্বুরে কুরআন হবে অন্যদিকে রাসূল সা. এর আদেশ পালন করা হবে “প্রচার করো যদি একটি আয়াত হলেও জানো”। ওয়ামা তৌফিকি ইল্লাহ বিল্লাহ।

পড়ছিলাম সূরা মাঊন বাংলা অনুবাদ সহ।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে?
সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়
এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।
অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর,
যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর;
যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে
এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।
.

উপরোক্ত অনুবাদটি কয় হাজারবার পড়া হয়েছে ইতিপূর্বে আল্লাহই ভাল জানেন,
অথচ আজকে অনুবাদটা চোখে পড়ে মনে হলো সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে নাযিল হওয়া এই মাক্কী (পক্ষান্তরে মাদানী কিছু কিছু মতে যেহেতু এখানে মুনাফিকদের সালাত, লোকদেখানো দানের কথা উল্লেখিত) সুরাটি যেনো বর্তমানের চারপাশের বাস্তবতা।

সূরাটিতে এসেছে কিছু নিদিষ্ট পয়েন্ট যথা;

-ইয়াতিমদের হক নষ্ট করাঃ ইয়াতিমদের সম্পদ হরণ করা তাদের বঞ্চিত করা, তাদের হক মেরে হই হই করে ধনী হওয়া এমন হাজারটা ঘটনা দিয়ে আমাদের চারপাশ আচ্ছাদিত।

নিজের চোখে এমন কত নিষ্ঠুর পিচাশ দেখেছি যারা তাদের ইয়াতীম বোনের সম্পদ আত্নসাৎ করছে নিজেদের কোটি কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অবশ্যই বিচারদিবসে এইসব জালিমদের পাকড়াও করবেন। নিশ্চয়ই তার পাকড়াও বড়ই কঠিন।

-নামাজের খুশু খুজু না আসাঃ এই সমস্যাটা অধিকাংশ মুসল্লিদের কম বেশি হয়। সারাদিনের যত প্রয়োজনীয়, অপ্রয়োজনীয় চিন্তা এই নামাজের সময়ে মনে পড়ে যায়।

এক্ষেত্রে তারাই একমাত্র খুশুখুজু ধরে রাখতে পারে যারা বুঝে তারা নামাজে কি বলছে। আমরা নামাজে যা আরবিতে বলি তা যদি বাংলায় অনুবাদ সহ বুঝে পড়ি তাহলে খুশুখুজু আনয়ন করা ৩০% সহজ হয়ে যায়, আর ৪০% দরকার আল্লাহর প্রতি ভয় এবং বাকি ৩০% আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা রাখা এবং ভাবা যে এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দিচ্ছেন এবং তাকে অন্তর্ভুক্ত করছেন মুত্তাকিদের লিস্টে। আল্লাহ তা’আলা আমাদের নামাজে খুশু খুজু বাড়িয়ে দিন আমিন।

-রিয়া-লোক দেখানো আমলঃ চারদিকে আজ লোক দেখানো দানের ছড়াছড়ি, কেউ শুধু ছবি তুলে ফেইসবুকে নিজেকে শো-অফের করার জন্যে দান করে কেউবা ট্রেন্ডের স্রোতে গা বাসানোর জন্যে। দুইদিন আগে সম্ভবত দেখলাম এক লোক দান করার ছবি তুলে তারপর ত্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে সমাজে প্রকৃত দ্বীনদার থেকে ফেসবুকে দ্বীনধারী মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলছে। অনলাইন দাওয়াহ ও রিয়া যেনো পাশাপাশি রাখা চুম্বকের ন্যায় আকর্ষণ করে একে অপরকে। নিয়তে পরিশুদ্ধতা আনয়ন করে এক প্রকার নফসের সাথে যুদ্ধ করেই এই চুম্বকের আকর্ষণ নিষ্ক্রিয় করতে হয়।আল্লাহ যেনো আমাদের বড় ও ছোট শিরক থেকে এমন দূরে রাখুন যেমনটা দূরে রেখেছেন উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে পরস্পর থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শিরক সর্বাধিক অপছন্দ করেন এবং শিরক ব্যতীত অন্যসব সব গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দিবেন।

.
এই সূরার মাধ্যমেই আরেকটা জিনিস বুঝা যায় তা হলো আল কুর’আনের কথা গুলো শুধু ১৪০০ বছর আগের যুগের সাথেই প্রাসঙ্গিক না বরঞ্চ এর প্রতিটা লাইন কিয়ামতের আগ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যেমনটা এই সুরাটি পড়ে মনে হলো আল্লাহ তা’আলা এই যুগের বাস্তবতাই তুলে ধরছেন।

অন্তরে ভয় লাগে যখন এই প্রতিচ্ছবির একাংশের(সালাতের খুশুখুজু) সাথে নিজের অবস্থান কিছুটা মিলে যায়। রব্বিগফিরলি, আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতু’বূ ইলাইহি!

হে মহান রাব্বুল আলামিন,আমাদের সালাত,সদকা ও সকল নেক আমল কবুল করুন,আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, আমাদের মুত্তাকি/মুত্তাকিয়াহ দের অন্তর্ভুক্ত করুন, পরিশেষে আমাদের মনকে আপনার দ্বীনে প্রতি সুদৃঢ় করুন! আমিন।

লেখা- আয়ুশি পারভেজ মিম

Facebook Comments