আপনি কী দুঃশ্চিন্তা  বা হতাশায় ভুগছেন ? লেখাটি আপনার জন্য ।

642
যেভাবে চিন্তা দূর করবেন

আপনি কী দুঃশ্চিন্তা  বা হতাশায় ভুগছেন ? আপনার সমাধান একটা জিনিসের মধ্যে রয়েছে।

একবার এক গুনাহগার লোক শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায (রাহিঃ) কাছে এসে বলেছিল সাত বছর যাবত তিনি একটা সন্তানের প্রতীক্ষায় আছেন কিন্তু তার সন্তান হচ্ছেনা।শাইখ ইবনে বায তাকে এক বাক্যে উত্তর দিয়েছিলেন, ইস্তিগফারের পরিমান বাড়িয়ে দাও।’ এক বছর পরে সেই লোক শায়েখ ইবনে বাযের কাছে এসে বললেন,’ইয়া শাইখ, আমি যে জিনিস চেয়েছি সেটা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। ‘

আরেকবার বিখ্যাত তাবেঈ হাসান আল বসরী রাহিমাহুল্লার কাছে এক লোক এসে বললেন,আকাশ থেকে বৃষ্টি নামছে না। কি আমল করা যায় বৃষ্টির জন্য? হাসান আল বসরী তাকেও ইস্তিগফার করতে বললেন। আরেকজন এসেছে দারিদ্র্যতার ব্যাপারে তাকে ও তিনি ইস্তিগফার করতে উপদেশ দিলেন। আরেকজন এসেছে সন্তান লাভের আমল জানার জন্য তাকে ও তিনি ইস্তিগফারের পরিমান বাড়িয়ে দিতে উপদেশ দিলেন।

তখন হাসান আল বাসরী রাহিমাহুল্লার মজলিসে উপস্থিত তার ছাত্ররা সবাই উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে একেক জন একেক সমস্যা নিয়ে এসেছে আপনি সবাইকেই ইস্তিগফার করতে পরামর্শ দিলেন কেন? হাসান আল বসরী রাহিমাহুল্লাহ জবাব দিলেন তোমরা কি কুরানের সে আয়াত পড়ো নি যেখানে আল্লাহ বলেছেন,

“অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন। ” {সুরা নুহঃ ১০-১২}


বিপদের আশংকা যখন


আল্লাহতায়ালা বলেন,হে মুমিনগন তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার কর তাহলে অবশ্যই তোমরা সফলহবে।যারা ইস্তেগফার করে না তারাই জালেম। সুরা নুর আয়াত ৩১+সুরা হুজুরাত ১১ আয়াতের শেষাংশ।

লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নিকুন্তু মিনাজ্জলিমীন।
আল্লাহ পাক ছাড়া মহাবিশ্বের আর ভিন্ন অন্য কোন প্রভু নেই। তিনি মহান ও পবিত্র আর অবশ্যই আমি জালিমদের দলভুক্ত)
(ইস্তেগফার এর কারনে) তখন আমি নবী ইউনুসের ডাকে সারা দিয়েছিলাম তাকে নাজাত দিয়েছিলাম দুশ্চিন্তা থেকে বস্তুত আমি মুমিনদের নাজাত দিয়ে থাকি।
সুরা আম্বিয়া – ৮৮

‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।

আবূ দাঊদ : ১৫২০; ইবন মাজা : ৩৮১৯; তাবরানী : ৬২৯১

আনাস(রাঃ) বলেন, রাসূল(সাঃ) বলেছেন,প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার।উত্তম গুনাহগার তারাই যারা তওবা করে, ক্ষমা চায়।

[মিশকাত ২৩৪০]

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন তোমাদের কারো হারান জিনিস ফিরে পেলে সে বেক্তি যেভাবে খুশি হয়। ঠিক তেমনি তোমাদের কেউ আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ পাক সে বেক্তির থেকেও বেশি খুশি হন।

সহিহ তিরমিজি ৩৫৩৮ ইবনে মাজা ৪২৪৭, মুসলিম

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন তোমরা যদি গুনাহ না করতে তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা এমন এক জাতিকে সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করত, তারপর আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাফ করে দিতেন।

সহিহ মুসলিম,তিরমিজি ৩৫৩৯ ইবনে মাজাহ

আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি যতদিন আমাকে ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে আশা করতে থাকবে তোমার পাপ যাই হোক না কেন ,আমি তা ক্ষমা করে দিব, এতে আমার কোন পরওয়া নেই। হে আদম সন্তান! তোমার পাপরাশি যদি আকাশের মেঘমালায়ও উপনীত হয়, এর পর তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তবুও আমি সব ক্ষমা করে দিব, এতে আমার কোন পরওয়া নেই। হে আদম সন্তান! তুমি যদি যমীন পরিমান পাপরাশি নিয়েও আমার কাছে এসে উপস্থিত হও, আর আমার সঙ্গে যদি কিছুর শরীক না করে থাক, তবে আমি সি পরিমান ক্ষমা ও মাগফিরাত তোমাকে দান করব।
[ সুনান তিরমিজী – ৩৫৪০ ]

এক হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন আমি দৌনিক এক শত বার এস্তেগফার করি।

? “আপনি বলে দিন যে, (আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছো, তোমরা আল্লাহ তা’আলার রহ্মত হতে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ (অতীতের) সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করবেন; নিশ্চয়ই তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, দয়ালু। আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন কর এবং তার নিকট আত্মসমর্পণ কর আযাব আসার পূর্বেই, অতঃপর আর সাহায্য করা হবেনা।” সুরা আযযুমার: ৫৩-৫৪

Facebook Comments