বিশ্বব্যাপী আযানধ্বনি – বিশ্বে প্রতিটি মুহুর্তেই আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে।

273

লেখাটা যখন পড়ছিলাম, আমার রবের কসম আমার দু’চোখ দিয়ে অঝোরভাবে অশ্রু ঝরছিল।

বিশ্বব্যাপী আযানধ্বনি ঃ

অনেক আগে, মাসিক জাগো মুজাহিদ না কোন পত্রিকায় যেন, ঠিক মনে পড়ছে না। একটা খবর পড়ে দারুনভাবে আলোড়িত হয়েছিলাম। খবরটা হলো, বিশ্বে প্রতিটি মুহুর্তেই আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। কয়দিন আগে একটা লেখায় সেই হিসেবটা পেলাম।

পৃথিবীর মানচিত্রে সবচেয়ে পূর্ব প্রান্তের মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। এ দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
= সাবিল, জাভা, সুমাত্রা, বণির্য়া
ফজরের সময়, এই সাবিল শহর থেকে শুরু হয় হাজার হাজার ইন্দোনেশীয় মুয়াজ্জিনের আযান। ফজরের আযানের এই প্রক্রিয়ে ক্রমেই এগিয়ে চলে পশ্চিমের দিকে।

সাবিলের আযান শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘন্টা পর জাকার্তায় প্রতিধ্বনিত হয় আযানের সুর। এরপরই সুমাত্রায় শুরু হয় আযানের এই পবিত্র প্রক্রিয়া।

ইন্দোনেশিয়ার আযানের ধ্বনি শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশ ম্যালয়েশিয়া থেকে বার্মা জাকার্তায় শুরু হওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আযানের সুর পৌচ্ছে যায় #বাংলাদেশের_রাজধানী_ঢাকায়

বাংলাদেশের পর আযানের ধ্বনি চলে পশ্চিম ভারতের দিকে। কলকাতা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত এবং তারপর এগিয়ে যায় বোম্বের দিকে।

শ্রীনগর এবং শিয়ালকোট (পাকিস্থানের উওরের একটি শহর) শহর দু’টিতে আযানের সময় একই সাথে শুরু হয়। শিয়ালকোট, কোয়েটা এবং করাচির মধ্যে সময়ের পাথর্ক্য চল্লিশ মিনিটের মত।

তাই এ সময়ের মধ্যে সমগ্র পাকিস্থান জুড়ে শোনা যায় আজানের সুর। সেই সুর পাকিস্থানে মিলিয়ে যাবার আগেই আফগানিস্তান আর মাস্কাটে এসে এর ঢেউ লাগে। বাগদাদের সাথে মাস্কাটের সময়ের পার্থক্য এক ঘন্টার।

আযানের আহবান প্রতিধ্বনিত হয়, ‘ হিজায-ই-মুকদ্দাস’ (মক্কা-মদিনার পবিত্র শহরসমূহ), ইয়েমেন, সংযুক্ত আমিরাত, কুয়েত, এবং ইরাকের আকাশে বাতাসে। বাগদাদ এবং মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার সময়ের পাথক্য ও এক ঘন্টা। তাই এ সময়ের মধ্যে সিরিয়া, মিশর, সোমালিয়া এবং সুদানে চলতে থাকে আযান।

পূর্ব ও পশ্চিম তুরস্কের মধ্যে ব্যবধান দেড় ঘণ্টার, এ সময়ে মাঝে সেখানে নামাজের আহবান শোনা যায়। আলেকজান্দ্রিয়া এবং ত্রিপলি (লিবিয়ার রাজধানী) এক ঘন্টার ব্যবধানে অবস্থিত। একইভাবে আযানের প্রতিধ্বনি সমগ্র আফ্রিকা জুড়ে চলতে থাকে। এর পর আটলান্টিক মহাসাগরের দেশ মরক্কো, মৌরিতানিয়ায় এসে পৌচ্ছে।

পৃথিবীর পূর্ব উপকূলে তাওহীদ এবং রিসালাতের প্রচারের যে ধারা শুরু হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ায় তা এসে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে পৌছে সাড়ে নয় ঘন্টা পর।

ফজরের আজানের বার্তা আটলান্টিকের উপকূলে পৌঁছাবার পুর্বে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে যোহরের আযানের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় এবং ঢাকায় এটা পৌঁছানোর পূর্বেই সেখানে শুরু হয়ে যায় আসরের আযান। দেড় ঘন্টার মত সময় পেরিয়ে এ প্রক্রিয়া যখন জাকার্তায় পৌঁছে ততক্ষণে সেখানে মাগরিবের সময় হয়ে যায়, এবং মাগরিবের সময় সুমাত্রায় শেষ না হতেই সাবিলে এশার আযানের আহবান ভেসে আসে।

এক্টু গভীরভাবে চিন্তা করলেই আমাদের চোখে পড়বে আযানের অবাক করা দিকটি, তা হলো-
= পৃথিবীর বুকে প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও হাজার হাজার মুয়াজ্জিনের গলায় উচ্চ স্বরে আযানের সুর ভেসে বেড়ায়। এমনকি আমরা যে মুর্হুতে আমার এই লিখাটা পড়ছে, নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ঠিক এই মুর্হূতেও এই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও অন্ততঃ হাজার খানেক মানুশ শুনতে পাচ্ছে আযানের সুর, মুয়াজ্জিনদের গলায়, আর এমনি করে সে আহবান ভেসে বেড়াচ্ছে প্রতিটি মুর্হুতে।

আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার!
হাইয়া আলাস সালাহ!
হাই আলাল ফালাহ!
এসো কল্যাণের পথে, এরচেয়ে উওম ডাক আর কি হতে পারে।
====================================
লেখক – শায়খ Atik Ullah (বারা-কাল্লাহু ফি ইলমিহি)
কৃতজ্ঞতা Sanjida Mithila (আল্লাহ্‌ পাক উওম নিয়ামত দান করুক)

Facebook Comments