আল্লাহর সাথে ব্যাবসা !

369
উসমান রা

আল্লাহর সাথে ব্যাবসা!
————————-
আপনি কি জানেন যে, আজও সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. -এর একটি একাউন্ট রয়ে গেছে?! আপনি কি উসমান ইবনে আফফান টাওয়ারের কাহিনী জানেন, বর্তমানে যেটি মসজিদে নববীর পাশে নির্মাণাধীন?! সেখানে কি আজও উসমান বিন আফফান রা. – এর বংশধররা রয়ে গেছে, যাঁরা তাঁর নামে এই টাওয়ারটি নির্মাণ করছেন?! ইহা এক লোমহর্ষক কাহিনী! তাহলে শুনা যাক-

মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের পর যখন দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো, ততবেশি পানিরও প্রয়োজন বাড়তে থাকলো। মদীনায় যে কূপ থেকে সবচেয়ে বেশি পানি সরবরাহ করা হতো, তার নাম ছিলো রূমা কূপ। কিন্তু এই কূপটি ছিলো একজন ইহুদীর। ইহুদী অত্যন্ত শক্তদিলের আদমী ছিলো। সে একফোঁটা হলেও পানিকে বিক্রি করতো!

হযরত উসমান রা. – বিষয়টি জানতে পারলেন। তিনি ইহুদীর কাছে এসে কূপটি বিক্রয় করার আবেদন করলেন। কিন্তু ইহুদী তা প্রত্যাখ্যান করে বসলো। তিনি কূপের অর্ধেক বিক্রয় করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। এভাবে যে, কূপটি পালাক্রমে একদিন তাঁর মালিকানায় থাকবে। আরেকদিক ইহুদীর। আর ইহুদী তার মালিকানার দিন পানি বিক্রি করবে। এবার ইহুদী সম্মতি প্রকাশ করলো। কারণ, সে মনে করে করলো, এবার আগের চেয়ে ক্রেতা অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আবার অর্ধেক কূপের দাম তো পকেটেই আছে! কিন্তু ঘটলো তার বিপরিত। পানি বিক্রির ব্যবসায় মন্দা দেখা দিলো! একজনও ক্রেতার খবর নাই! ইহুদীর আশ্চর্যেরও সীমা নাই! ইহুদী অনুসন্ধান করে জানতে পারলো যে, উসমান রা. – তাঁর মালিকানাধীন অর্ধেক কূপ মানুষের জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ করে দিয়েছেন।

মানুষেরা তাঁর মালিকানার দিন ফ্রি তে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি নিয়ে যায়, তাই তার (ইহুদীর) মালিকানার দিন আর প্রয়োজন পড়েনা! ইহুদীর তো মাথায় হাত! সে তড়িৎ উসমান রা. – এর কাছে গিয়ে পুরো কূপটি খরিদ করে নেয়ার অনুরোধ করতে লাগলো। তিনি ২০ হাজার দিরহামের বিনিময়ে পুরো কূপটি কিনে নিলেন। পুরোটাই আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিলেন।

কিছুদিন পর তাঁর কাছে একজন সাহাবি আগমন করে দ্বিগুণ মূল্যে কূপটি খরিদ করতে চাইলেন। উসমান রা. – বললেন, এর চেয়েও বেশি মূল্য আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, কিন্তু আমি দেইনি। ঐ সাহাবি তিনগুণ মূল্য দিয়ে খরিদ করতে চাইলেন। উসমান রা. – বললেন, এর চেয়েও বেশি মূল্য পেশ করা হয়েছে এ, তবুও আমি দেইনি। এবার ঐ সাহাবি আশ্চর্য হয়ে বললেন, এরকম চড়ামূল্য দিয়ে ক্রেতা আমি ব্যতিত আর কাউকে পাবেননা আপনি! উসমান রা. – বললেন, ভালো কাজের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ আমাকে দশগুণ দান করবেন!

উসমান রা. – কূপটি ওয়াকফ করে দিলেন। কিছুদিনের মধ্যে কূপের আশেপাশের খেজুরগাছগুলো খুব দ্রুত বাড়তে লাগলো। কালের আবর্তে হয়ে গেলো এক বিশাল খর্জুর বিথিকা। এভাবে আসলো উসমানী খিলাফাহর যুগ। উসমানী খিলাফাহ বাগানটাকে খুবই পরিচর্যা করলো। উসমানী খিলাফাহর পতনের পর আসলো সৌদি সরকারের আমল। সৌদি সরকার বাগানটির আরও যত্ন নিলো। এমনকি বাগানের খেজুর গাছের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৫৫০-এ!

সৌদি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় একটি প্রসংশনীয় অবস্থানে উত্তীর্ণ হলো। কৃষি মন্ত্রণালয় বাগানের আহরিত খেজুর আরব সহ বিশ্ববাজারে রফতানি করে বিরাট লাভের অধিকারী হতে লাগলো। লাভের অর্ধেক ইয়াতিম ও ফকির-মিসকিনদের জন্য ব্যয় করতে লাগলো আর বাকি অর্ধেক উসমান রা. এর নামে একাউন্ট খুলে সঞ্চিত করতে শুরু করলো। একাউন্ট পরিচালনা করতে লাগলো স্বয়ং সরকারী মন্ত্রণালয়।

এভাবে লাভ শুধু বাড়তেই থাকলো বাড়তেই থাকলো। একসময় একাউন্টে এমন পরিমাণ সম্পদ সঞ্চিত হলো যে, যা দিয়ে মসজিদে নববীর পাশেই সদর এলাকায় একটা জমি কেনা যাবে। অতঃপর মসজিদে নববীর পাশেই একটি জমি কিনে ‘উসমান ইবনে আফফান রা. – টাওয়ার’ এর কাজ শুরু হলো ঐ লাভ থেকেই। বর্তমানে টাওয়ারের কাজ শেষ পর্যায় চলে এসেছে। অচিরেই টাওয়ারটি টাওয়ার কমিটিকে পাঁচটি মেয়াদে ভাড়া দেয়া হবে। বার্ষিক ভাড়া আসবে ৫০ মিলিয়ন সৌদি রেয়াল! অর্ধেক ইয়াতিম ও ফকির-মিসকিনদের একাউন্টে, আর বাকি অর্ধেক উসমান রা. – এর? একাউন্টে।

খুশির বিষয় হচ্ছে, যে জমিতে টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জমিকে চিরস্থায়ীকালের জন্য ‘উসমান ইবনে আফফান রা. – এলাকা’ নামে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে!

আল্লাহু আকবার! ইহা আল্লাহ তা’লার সাথে ব্যবসার ফল! যে ব্যবসা ১৪ টি শতাব্দীকাল ধরে চলমান!! জানিনা উসমান রা. – এর আমলনামায় লিখিত পূণ্যের পরিমাণ কতটুকু?!


সুত্র- আরবের জনপ্রিয় ফেইসবুক পেইজ (قصص و عبر) হতে অনূদিত।

Facebook Comments