আকিদাহ ধ্বংসের শিয়া প্রজেক্ট – ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’

688
শিয়া বিশ্বাস
আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে মাতামাতির এক পর্যায়ে এসে যুক্তিবিদ্যার বাড়াবাড়ি করা বিভ্রান্তদের দেখা যাবেই। যদিও বেশিরভাগেরই তা অনিচ্ছাকৃত, তবে ঈমানের মৌলিক বিষয়াদিগুলোয় তো কোনো ছাড়াছাড়ি হতে পারে না। আর আস্তিক নাস্তিক আলোচনা যদি কোনো রাফেজি বা শিয়া কেউ করতে থাকে? তাহলে তো কাদারিয়্যাহদের মত তাকদিরকে অস্বীকার বা মানুষের কার্যাবলিতে আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার, জাহমিয়াদের মত আসমানি গুণাবলি অস্বীকার সব মিলিয়ে মু’তাযিলা আকিদাহকে ‘যুক্তি’ বা ‘দর্শন’ নামক মোড়কে উপস্থাপন হবে সেটাই স্বাভাবিক। সমস্যা হল, সাথে সাধারণ মু’মিনরাও যুক্তির তালে তালে আলো ভেবে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে দিয়ে ফেলে। আজকের আলোচনার সেই আগুন হল ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’ নামক বই, বইয়ের লেখক আর আকিদাহ বিধ্বংসী কার্যকলাপ। শুধু তাই নয়, বইটিকে নাকি একইসাথে হার্ডকপি, সফটকপি আর অ্যাপ ভার্সনেও রিলিজ করা হবে – সুতরাং ওদের ডেডিকেশন কোথায় তা কল্পনা করুন।
[ডিস্ক্লেইমারঃ এখানে আকিদাহ জনিত যেসব ভ্রান্তির সাথে রেফারেন্স লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে তা কেবলই সত্যতার জন্য। এগুলো অধিকাংশের জন্যই ফিতনাহের উদ্রেক করবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই অনেকেই এই ফিতনাহে পতিত হয়েছেন বলে স্রেফ ভ্রান্তিগুলোর প্রমাণস্বরূপ লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে। কৌতুহলের বশে ঈমানের ফিতনাহে জড়াবেন না।]

লেখক একজন শিয়া!

‘স্রষ্টাভাবনা’ নামে ফেসবুকে পেইজ আর ইভেন্ট খুলে আকিদাহ বিধ্বংসী হবু ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’ বইয়ের প্রজেক্ট জোরে শোরে আগানো হচ্ছে। তবে বইয়ের আগে লেখকের সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানানো প্রয়োজন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হল – ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’ বইটির লেখক একজন শিয়া অ্যাক্টিভিস্ট – নূরে আলম মাসুদ। [তার আইডিঃ
কৌশলে পেইজের কোথাও লেখকের নামোল্লেখ না থাকলেও ইভেন্ট পেইজের Details এ নাম দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ( https://tinyurl.com/yab82auw ) হয়তো এমন অনুসন্ধানী পোস্টের পর সরিয়ে ফেলা হতে পারে। তাই ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ তে নেওয়া
স্ক্রিনশটও দেওয়া হল।

 

আইডিতে গেলেই দেখা যাবে, ইরানের রাফেজি নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির ভক্ত হয়েই সে ক্ষান্ত হয় নি, বরং নিজে ‘ইমাম খোমেনী’ নামে পেইজ চালায়। এছাড়া ‘স্রষ্টাভাবনা’ পেইজেরও যে সে অ্যাডমিন তাও দিয়ে রাখা হয়েছে।
তবে তার ব্যক্তিগত ব্লগসাইটে রাফেজি শিয়াদের বহুল প্রচারিত ‘গাদিরে খুম’ এর জাল হাদিস আর তা থেকে ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলীকে (রদিআল্লাহু আ’নহু) মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর ﷺ পর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার পুরনো প্রচেষ্টা দেখা যায় – [http://nure-alam.blogspot.com/2013/…]

ব্লগ সাইটের একটি লিখার অংশ
মজার ব্যাপার হল, তিনি নাকি সোর্স অনুল্লেখ রেখেছেন ‘ফ্যালাসি এড়ানোর জন্য’। অথচ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর উলামাগণ ‘গাদীরে খুম’ বা খুমের ঝর্ণার হাদিসকে স্পষ্টতই জাল বলেছেন। ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনু আফফানের (রদিআল্লাহু আনহু) হত্যাকাণ্ডের পর যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল তখনই মূলত শিয়া আর খারেজিদের উৎপত্তি হয়েছিল। সেই সময় শিয়ারা রাসূলুল্লাহ ﷺ ও আলীর (রদিআল্লাহু আনহু) পরিবারবর্গের অনুকূলে প্রচুর জাল হাদিস রচনা করে নিয়েছিল। শিয়াদের বহুল প্রচারিত তেমনই আরেকটি জাল হাদিস হল – “আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা। সুতরাং যে ব্যক্তি শহরে ঢুকতে যায় সে যেন দরজার দ্বারস্থ হয়।”
শিয়া আকিদাহ ছড়াতে থাকলেও অনেক সাধারণ সুন্নি মুসলিমও তার থেকে যুক্তিপূর্ণ শিরক গ্রহণ করে ফেলছে তার একটি নমুনা হল এই – [ https://tinyurl.com/y7sdb9el ] এছাড়া লেখকের আইডি আর ব্লগসাইটগুলো ঘুরলে লেখকের রাফেজি হওয়ার ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ থাকবে না ইন-শা-আল্লাহ। ব্লগ সাইটগুলোতে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাঙালি শিয়াদের মতামত আর শিয়া রাষ্ট্র ইরানের গুণগাণ এক বিনোদন জোগাবে। [ব্লগ সাইট ১ঃ http://goo.gl/Dsu5v7 , ব্লগ সাইট ২ঃ http://nure-alam-masud.blogspot.com/…]
লেখকের শির্কি দাওয়াতের একটি খণ্ডচিত্র (যুক্তিপূর্ণ কিন্তু!)

আকিদাহগত কারণে গুটিকয়েক সেক্ট ছাড়া শিয়াদের অধিকাংশই যে কাফির তা আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। এখানে হয়তো জনৈক যুক্তিবান ‘অ্যাড হোমিনেম’ ফ্যালাসির কথা নিয়ে আসবেন আর বলবেন সে শিয়া হলেই তার কথা বাদ দেব কেন, সে তো ঠিক কথাও বলতে পারে… হেনতেন ইত্যাদি। এক্ষেত্রে স্মরণ করিয়ে দিই, ব্যক্তিদোষ ছোট করে দেখা সবসময় ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের হাদিসশাস্ত্র গড়েই উঠেছে ‘নির্ভরযোগ্য’ রাবী’দের বর্ণনা পরম্পরার উপর ভিত্তি করে। আর অনেক জ্ঞানী হলেও শিয়াদের থেকে দ্বীন গ্রহণের প্রশ্নই আসে না

শিয়াদের নিয়ে জানার জন্য কিতাবাদির শেষ নেই। এই পোস্টের মুখ্য উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে চাই ইন-শা-আল্লাহ। শিয়াদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে ক্লাসিকাল উলামাদের লিখনী পড়তে পারেন; যেমন মুহিব্বুদ্দীন খতীব এর “আল-খুতুত আল-আরিদা” কিংবা শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার “মিনহাজুস সুন্নাহ”। এছাড়াও শিয়াদের সম্পর্কে এবং তাদের ভ্রান্তিগুলো অপনোদনমূলক অনেক গ্রন্থ রয়েছে। ফেসবুক কন্টেন্ট খুঁজলেও বহু পাওয়া যাবে। এবিষয়ে কারও সন্দেহ থাকবার কথা নয়। আল্লাহ আমাদেরকে ওদের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে হিফাযত করুন।

আকিদাহ বিধ্বংসী বই

বইয়ের নাম ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’। তবে ফেসবুকে কেবল ‘স্রষ্টাভাবনা’ নামে পেইজ খোলা হয়েছে। (https://tinyurl.com/ycst5dpn) । নাস্তিকদের জবাবে ‘আরেকটি বই’ ভেবে অনেকেই হয়তো পেইজ ফলো করা শুরু করেছেন। মজার ব্যাপার হল মার্কেটিংয়ের জন্য তারা ইভেন্টও খুলেছে। (https://web.facebook.com/events/311…)

পেইজের About অংশের স্ক্রিনশট
লেখকের পরিচয় পূর্বেই জানিয়ে দেওয়ায় বই সম্পর্কে ধারণা সহজেই অনুমান করা যায়। কিছু নির্বোধেরা হয়তো দাবি করতে পারে যে লেখক রাফেজি (শিয়া) হয়েছে তো কী হয়েছে? আদতে শুধু বইয়ের বিবেচনা করলেও আক্বলানিয়্যুনদের (Rationalist) মত একসময় মু’তাযিলা আকিদাহের কথা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির অসংখ্য উদাহরণ দেখানো সম্ভব। এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হল, ঈমানের মৌলিক বিষয়াদিতে বিশ্বাসই হল ঈমানের ভিত্তি। কিন্তু তা যদি পুরোপুরিভাবেই যুক্তি থেকে ব্যাখ্যা করা যেত, তবে ‘বিশ্বাসের’ কোনো প্রয়োজন হতো না। একারণেই রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এসব বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তা করতে কড়াভাবে নিষেধ করেছেন, একারণেই আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন কুরআনুল কারিমের প্রথমেই আমাদের থেকে চেয়েছেন ‘গায়েবে বিশ্বাস’।
কথা না বাড়িয়ে কিছু পোস্ট যেগুলো কিনা ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’ বইয়ের অংশ সেগুলোয় কিছুটা চোখ বুলানো যাক –
[১] ঈমানের ভ্রান্ত মনগড়া ব্যাখ্যাঈমানের নাকি তিনটি স্তর রয়েছেঃ ব্লাহ ব্লাহ। ঈমানের মূল শব্দমূল হল নিরাপত্তা আর প্রশান্তি, “আমাদের হৃদয়ে (মস্তিষ্কে নয়, ক্বলবে) যখন ঈমান প্রবেশ করবে, তখন আমরা নিরাপদ ও প্রশান্ত হয়ে যাবো।”, “কেউ তাত্ত্বিকভাবে (বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে – intellectually, ব্রেইনের ভিতরে) ইসলামকে সঠিক বলে মেনে নিলো। তখন তারা হলো ‘মুসলিম’, অর্থাৎ আত্মসমর্পনকারী। কিন্তু তখনও তাদের ক্বলব (হৃদয়ে) ঈমান (প্রশান্তি ও নিরাপত্তা) প্রবেশ করেনি। অর্থাৎ, মুসলিম বটে, কিন্তু ঈমানদার নয়। ” এসব অশ্রুতপূর্ব (যদি শিয়া না হয়ে থাকেন) বক্তব্য আনা হয়েছে যা শিয়া আকিদাহ সম্পর্কে যাদের লেখাপড়া আছে তারা সহজেই ধরতে পারবেন।
ঈমান সংক্রান্ত পোস্টের লিঙ্কে এও বলা হয়েছে যে এ নিয়ে বইতে রীতিমত একটা অধ্যায় রয়েছে। নাস্তিকতার বিরুদ্ধে লিখবার অন্তরালে কী সুন্দর আকিদাহ বিধ্বংসী প্রজেক্ট!

[২] তাকদির বিষয়ে

কাদারিয়্যাহদের ন্যায় কৌশলী অস্বীকারকাদারিয়্যাহরা তাকদিরকে অসস্বীকার করে আল্লাহ তা’লার মর্জি ও ক্ষমতা থেকে স্বাধীন হিসেবে বিশ্বাস করতো। তুলনামূলকভাবে কম চরমপন্থী শাখাগুলো আল্লাহ তা’লার আগাম জ্ঞানে বিশ্বাস করে কিন্তু কার্যাবলি যে আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী হয় এবং সেগুলো যে আল্লাহরই সৃষ্টি ইত্যাদি যুক্তিতর্ক আর জাল হাদিস দিয়ে অস্বীকার করতো। এখানেও তাকদিরের অর্থ অস্বীকার করে তাকদিরকে কৌশলে অস্বীকার করা হয়েছে।
নিজের স্বার্থেই এসমস্ত বিষয়ে ফিতনাহ থেকে বেঁচে থাকবেন ইন-শা-আল্লাহ। তবে যাদের বিষয়গুলো জানা আছে, তারা সহজেই স্বরূপটা ধরতে পারবেন। কুরআনের শব্দগুলোর অর্থ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেই তারা সীমালঙ্ঘন করেছে। [ https://tinyurl.com/y9mzry4m ]
প্রায় সব পোস্টেই আক্বলানিয়্যুনদের (Rationalist) মত যুক্তিবিদ্যার ভুজুং আর বিষাক্ত আকিদাহ বিভ্রান্তি রয়েছে। মূলকথা হল, রাফেজি শিয়ারা মূলত কাদারিয়্যাহ, জাহমিয়্যাহ, কারামিয়্যাহ প্রভৃতি ভ্রান্ত ফিরকাহ থেকে বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদাহের সন্নিবেশে গড়ে উঠেছে। এছাড়া আলীকে (রদিআল্লাহু আনহু) মাত্রাতিরিক্ত সম্মান, প্রথম তিনজন খলিফাদের অবমাননা (রদিআল্লাহু আনহুম), প্রয়োজনমত জাল হাদিস রচনা করে নিজেদের ভ্রান্ত ফিরকাহ গড়ে তুলেছে। আর সেইসব ভ্রান্ত আকিদাহই সযত্নে গিলিয়ে দেওয়ার প্রজেক্টই হল ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’ বইটি। যেখানে আকিদাহতেই চরম ভ্রান্তি রয়েছে সেখানে ওয়ালা বারা’ বা আক্রমণাত্নক জিহাদকে অস্বীকার ( https://tinyurl.com/yc2cvlpw ) ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে কথা বাড়াতে চাই না।
.

নাসীহা

গুরুত্বপূর্ণ আরও দুইটি নাসীহামূলক পয়েন্ট যেগুলো আগেও বারংবার উল্লিখিত হয়েছে – নোটের সাথে আরেকবার স্মরণ না করিয়ে দিলেই নয়।
এক.
আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন আমাদের থেকে গায়েবে বিশ্বাস চেয়েছেন। তাই দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়াদিগুলো না দেখে, যুক্তি ব্যতিরেকে বিশ্বাসেই চলে আসবে। আর ঈমানের মূল বুনিয়াদ তথা আল্লাহ, মালাইকা, কিতাব, রাসূলগণ, আখিরাত, তাকদির ইত্যাদিতে যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসই মুমিনদের কাছে প্রাধান্য পাবে। যুক্তি দিয়েই যে ব্যাপারগুলো বুঝে গেছে ভেবে বসবে সে নিঃসন্দেহে ভুল জানবে বা উপরোক্ত গোমরাহির দিকেই ধাবিত হবে। তাই নাস্তিকতা নিয়ে লিখালিখির সময়ও এসব মৌলিক বিষয়াদি নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন – নিজেদের ঈমানের দাবিতেই। যৌক্তিকতা যেন বিশ্বাসকে আক্রান্ত করে না ফেলে।
ইমাম আত্ব-ত্বাহাউয়ি তাঁর ‘আল-আক্বিদা আত্ব-ত্বাহাউইইয়্যাহ’ তে তাকদির নিয়ে উল্লেখ করেছিলেন,
আল-ক্বাদরের জ্ঞান আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে দূরে রেখেছেন, এবং এ ব্যাপারে প্রশ্ন নিষিদ্ধ করে তাঁর কিতাবে বলেছেন, “তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না, বরং তারা জিজ্ঞাসিত হবে (তাদের কাজের ব্যাপারে)।” [আল-আম্বিয়া, ২৩]।
সুতরাং যে এ ধরণের তর্ক করে যে “কেন আল্লাহ এটা করলেন, কেন আল্লাহ ওটা করলেন?” সে কিতাবুল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে গিয়েছে। আর যে কিতাবুল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে গিয়েছে সে কাফির।”
ঈমানের মৌলিক বিষয়াদি এতটাই স্পর্শকাতর আর গুরুত্বপূর্ণ। আর তা আমাদের কল্যাণের জন্যই। আল্লাহর দ্বীন আমাদের মুখাপেক্ষী নয়। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হল তারা শুনে এবং মেনে নেয়।

শিয়াদের অতি ভক্তির নমুনা দেখুন  আহলে বাইতের মর্যাদা এবং তাঁদের বিরোধিতার কুফল


দুই.
তাহলে মনের ভিতর যে কত প্রশ্ন চলে আসে আর খচখচ করে, ঈমান হারাবার ভয় করে সেগুলো? এমনটা হলে ঈমানে সন্দেহে পতিত হওয়ার দুআ তো রয়েছেই। আর রাসূলুল্লাহকে ﷺ তো একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি ﷺ বলেছিলেন এটা (অনাহূত চিন্তায় ঈমান হারানোর ভয়) ঈমানের লক্ষণ! তাই চিন্তা আসলেও আল্লাহকে ভয় করুন, ঝেড়ে ফেলে দিন এবং আল্লাহর সাহায্য চান। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন,
“আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও।” [সূরা আ’রাফ, ২০০]
তিন.
কৌতুহল দমিয়ে ঈমান বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ। ‘আচ্ছা দেখি কী বলে’, ‘সমস্যা হবে না ইন-শা-আল্লাহ’ এসব বেশিরভাগের জন্যই শয়তানের প্ররোচনা। “যখনই ফিতনাহ দেখবেন তখনই তা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে” – এইকথা বহুবার শোনা হয়, এমন কথাগুলো এলে লাইক-শেয়ার আর নসীহতেরও কমতি হয় না। কিন্তু এই ধরনের আকিদাহ বিধ্বংসী ফিতনাহ যা উল্লেখ করলাম – এসবের ক্ষেত্রে ফিতনাহ থেকে বেঁচে থাকার বয়ানগুলো আর আমল করা হয়ে উঠে না অনেকের। পরিশেষে বান্দা ঈমানের মধ্যে ফিতনাহ নিয়ে, আরও খারাপ কেইসে ঈমান হারিয়েই ঘুমোতে যায়।
ইমাম আহমাদের (রহিমাহুল্লাহ) কথা স্মরণ করুন। যখন তাঁর কাছে মু’তাযিলারা যুক্তিপ্রমাণ পেশ করছিল তখন ইমাম অনেক কথা বুঝতেই পারেন নাই। যুক্তিতর্ক আর আকলিয়াতকে সবচেয়ে উঁচুতে স্থান দিয়ে যেসব নজিরবিহীন ব্যখ্যা মু’তাযিলারা করছিল তা ইমাম হয়েও আহমাদ ইবনু হাম্বল ঠাহর করতে পারেন নাই। আর সেখানে আমরা তো মামুলি মুসলিম। এসব নিয়ে আগ বাড়িয়ে জানতে যাওয় তো ফিতনাহের দরজা খুলে দেওয়া বৈকি কিছুই নয়। তাই বান্দা তুমি কৌহল দমিয়ে ঈমান বাঁচাও, তুমি কৌতুহল দমিয়ে ঈমান বাঁচাও!

পরিশেষ

শেষে সেখানেই ফিরে যাই যেখানে শুরু হয়েছিল। ইতোমধ্যেই হার্ডকপি ছাড়া সফটকপি আর আন্ড্রয়েডের অ্যাপ ভার্সন বের করে দিয়েও ‘দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা’ বই মানুষের কাছে অ্যাভেইলেবল করার চিন্তা করা হয়েছে।
নাস্তিকতা নিয়ে লিখালিখির আর পড়াশুনার যেহেতু জোয়ার চলছে তাই কত বান্দারই অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে যাবে সে শঙ্কা থেকেই যায়। আর এই বই যেহেতু এখনও বের হয় নাই, অন্য কোনো নামে ছাড়া হলেও বা একই টাইপ আকিদাহ বিধ্বংসী বই, লিখা ইত্যাদির প্রজেক্টে বান্দা-বান্দীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমাদের সালাফগণ এইসব ফিতান সম্পর্কে সতর্ক করতেন, আবার একইসাথে নিজেরা সঠিক আকিদাহতে অটলও থাকতেন। কোনোটার খেলাফ হতো না। নাস্তিকতা-আস্তিকতার মাতামাতিতে সেই ফিতান নতুন করে শুরু হওয়ার ছিল, অবশেষে তা হয়েও গেল। আল্লাহ আমাদেরকে সিরতল মুস্তাকিমের নিআমতপ্রাপ্ত পূর্বসূরীদের মতই অটল থেকে এসব মোকাবিলা করার তাওফিক দিন।
রিপোর্ট করে বন্ধ করবেন কিনা জানি না, তবে আল্লাহর জন্যই এইরকম পোস্টগুলো শেয়ার করে ভাইবোনদের সতর্ক করবেন ইন-শা-আল্লাহ। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন যে উল্টো প্রমোট হয়ে যাবে, কিন্তু আসলে কিছু না বলতে বলতেই ইতোমধ্যে হাজারখানেক ফলোয়ার ওদের বানানো হয়ে গিয়েছে। তাই চুপ করে থাকাটাই বরং ভুল সিদ্ধান্ত হবে। এত এত কথা বলা হয়ে গেল অথচ কুরআনের একটি আয়াতই যেন পুরো বিষয়কে আমাদের সামনে মেলে ধরে, আর পরের আয়াতটি যেন শিখিয়ে দেয় আমাদের করণীয়। আল্লাহ আযযাওয়াজালের সেই আয়াত দু’টো দিয়েই শেষ করছি ইন-শা-আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করুন।

তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিতনাহ বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। [আলে ইমরান, ০৭]

“ ইয়া রব্ব ! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করো না এবং তোমার নিকট থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সর্বদাতা। ” [সূরা আলে-ইমরান, ০৮]

-তানভীর আহমেদ

Facebook Comments