আহলে বাইতের [রাসুল(স) এর পরিবারবর্গ] মর্যাদা এবং তাঁদের বিরোধিতার কুফল

645
আহলে বাইতের মর্যাদা

শিয়ারা নিজেদেরকে আহলে বাইতের [রাসুল(ﷺ) এর পরিবারবর্গ] অনুসারী দাবি করে থাকে এবং তারা নিজেদেরকে আহলে বাইতের একমাত্র মহব্বতকারী হিসাবে মনে করে। তাদের অবস্থা ঐসব খ্রিষ্টানের অনুরূপ যারা নিজেদেরকে ঈসা(আ) এর অনুসারী ও মহব্বতকারী মনে করে অথচ তারা ঈসা(আ) এর ভালোবাসায় বাড়াবাড়ি করে শির্ক ও পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়েছে।
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আত (সুন্নী) সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের অভিযোগ হচ্ছেঃ সুন্নীরা পথভ্রষ্ট(!) আবু বকর ও উমারের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) অনুসারী এবং তারা আহলে বাইতকে পর্যাপ্ত মর্যাদা দেয় না। তাদের এই অভিযোগ মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। আবু বকর ও উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) মোটেও পথভ্রষ্ট ছিলেন না এবং আমরা সুন্নীরা আহলে বাইতদের ঠিক সেভাবেই সম্মান করি ও ভালোবাসি যেমনটি রাসুল(ﷺ) এর সুন্নাহ দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে।

আহলে বাইত কারা? আহলে বাইত হচ্ছে রাসুল(ﷺ) এর স্ত্রীগণ, বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিব।

…যায়েদ বলেনঃ ‘রাসূল(ﷺ) আমাদেরকে আল্লাহর কিতাবের প্রতি অনুপ্রাণিত করলেন এবং তদানুসারে কাজ করার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। (অর্থ্যাৎ তোমরা তাদেরকে ভুলে যাবে না)।’
হুসাইন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে যায়েদ! তার আহলে বাইত কারা? তাঁর স্ত্রীরা কি তাঁর আহলে বাইতের শামিল নন?
তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাঁর স্ত্রীরাও আহলে বাইতের শামিল। আর ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, তাঁর ইন্তেকালের পর যাদের প্রতি সাদকা খাওয়া নিষিদ্ধ (হারাম) করা হয়েছে, তারাও তাঁর পরিবারবর্গের শামিল।
হুসাইন জিজ্ঞেস করলেন, তারা কে কে?
যায়েদ বললেন, তাঁরা হলেনঃ আলী (রা), আকীল (রা), জাফর (রা) ও আব্বাস (রা)-এর বংশধরগণ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ এদের সবার প্রতি কি সাদকা নিষিদ্ধ ছিল?
তিনি (যায়েদ ) বললেনঃ ‘হ্যাঁ’।
[সহীহ মুসলিম; রিয়াদুস সলিহীন, বই ১, হাদিস ৩৪৬]

জুবাইর ইবনু মুত্ইম (রা) হতে বর্ণিত; আমি ও উসমান(রা) রাসূলুল্লাহর(ﷺ) কাছে গিয়ে বললাম, আপনি মুত্তালিব গোত্রের লোককে খাইবারের (গানিমাতের) মাল হতে পাঁচ ভাগের এক অংশ দিলের আর আমাদেরকে বাদ দিলেন। অথচ আমরা ও তাঁরা একই পর্যায়ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেনঃ বনু মুত্তালিব ও বনু হাশিমগন একই শ্রেণীভুক্ত।
[বুখারী, বুলুগুল মারাম ৬৪৭]

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের(সুন্নী) ইমামদের একজন হচ্ছেন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া(র)। তিনি অনেক সময় শিয়া ও অন্য বিদআতীদের রদ করেছেন। তাঁর “منهاج السنة” (মিনহাজুস সুন্নাহ) নামক গ্রন্থটির কারণে অধিকাংশ শিয়া মতাবলম্বী এবং সুন্নী নামধারী শিয়াঘেষা মাজারপন্থী বিদআতীরা তাঁকে তাদের চরম শত্রু মনে করে, তাঁকে নাসেবি {আলী(রা) ও আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণকারী} বলে মিথ্যা অপবাদ দেয়। দেখা যাক তিনি আহলে বাইতদের ব্যাপারে প্রকৃতপক্ষে কেমন অভিমত পোষণ করেন।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া(র)র প্রখ্যাত আকিদার কিতাব “العقيدة الواسطية” (আকিদা ওয়াসিতিয়া)তে খুব সংক্ষেপে বলেন: আহলুস সুন্নাত রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর পরিবার-পরিজনকে ভালবাসেন; তাঁদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন এবং তাঁদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর অসিয়ত যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন। যেমন কূপ পরিষ্কার করার দিন তিনি[রাসূলুল্লাহ(ﷺ)] বলেন:
‘‘তোমাদেরকে আমার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।”
[মুসলিম ও অন্যান্যগণ।]

রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর কাছে অভিযোগ এসেছে যে, কুরাইশদের কেউ কেউ বনু হাশিমকে উৎপীড়ন করে, তখন তিনি তাঁর চাচা আ্ববাস(রা)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন:
‘‘যার হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ করে বলছি তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা আপনাদেরকে ভালবাসবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ও আমার আত্মীয়তার কারণে।’’ [ইমাম আহমাদ, ফাদায়িলিস সাহাবা।]

রাসূলুল্লাহ(ﷺ) আরও বলেন:
‘‘নিশ্চয় ইসমাঈল সন্তান থেকে কেনানা গোত্রকে মনোনীত করেছেন; কেনানা গোত্র থেকে কুরাইশ গোত্রকে মনোনীত করেছেন; কুরাইশ গোত্র থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।’’ [মুসলিম]

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া(র) এভাবেই আহলে বাইতদের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকিদা ব্যক্ত করেছেন।

আহলে বাইতদের অধিকারঃ

=======================
আহলে বাইতদের প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য কর্তব্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
.
‘‘আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মু’মিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’’ -(আল-কুরআন, আহযাব ৩৩:৫৬)

ইমাম মুসলিম(র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু মাসউদ আনসারী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা সা‘দ ইব্‌ন উবাদা’র মজলিসে অবস্থান করা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে হাজির হলেন; অতঃপর বশির ইব্‌ন সা‘দ তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আপনার প্রতি দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং আমরা কিভাবে আপনার প্রতি দুরূদ পাঠ করব? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকলেন, এমন কি আমরা আশ্বস্ত হলাম যে, তিনি কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)বললেন, তোমরা বলবে:

“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ(ﷺ) ও মুহাম্মাদ(ﷺ) এর পরিবার-পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীম(আ)-এর পরিবার-পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনি মুহাম্মাদ(ﷺ) ও মুহাম্মদ(ﷺ)-এর পরিবার-পরিজনের প্রতি কল্যাণ বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীম(আ)-এর পরিবার-পরিজনের প্রতি কল্যাণ বর্ষণ করেছেন সারা জাহানব্যাপী। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, সম্মানিত।”
আর সালাম তা সেভাবে পেশ করবে, যেভাবে তোমরা তা শিখেছ। [মুসলিম, কিতাবুস সালাত, খ.১.পৃষ্ঠা ৩০৫, নং ৪০৫।]
অনুরূপ হাদিস আবু হুমাঈদ আসসা‘য়িদী(রা) থেকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) বর্ণনা করেন। এ বিষয়ে আরও অনেক দলীল রয়েছে।

ইমাম ইবনু কায়্যিম(র) বলেন: ইমামদের ঐক্যমতে এটা শুধু তাঁদেরই অধিকার, অপরাপর উম্মতগণ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
[জালাউল আফহাম গ্রন্থে আরও বিস্তারিত দেখুন।]

আর এই দো‘আটি দুরূদে ইবরাহীমের মধ্যেও আছে।

অনুরূপভাবে তাঁদের জন্য গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশের (خمس) অধিকার রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

‘‘আরও জেনে রাখ যে, যুদ্ধে তোমরা যা লাভ কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর, রাসূলের, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের এবং পথচারীদের।’’
-(আল-কুরআন, আনফাল ৮:৪১)

এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস রয়েছে। আর এটা রাসূলের(ﷺ) স্বজনদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ। তাঁদের জন্য এ নির্দিষ্ট অংশ রাসূলুল্লাহর(ﷺ) ইন্তিকালের পরেও বলবৎ রয়েছে। এটা অধিকাংশ আলেমের মত এবং এটাই বিশুদ্ধ।
[দ্রষ্টব্য আল-মুগনী, ৯/২৮৮। আহলে বাইতের হক বর্ণনায় শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া(র) এর একটি ছোট গ্রন্থ রয়েছে, যা আবু তুরাব আয-যাহেরী তত্ত্বাবধান করে প্রকাশ করেছেন।]

এখানে আহলে বাইতদের গুরুত্বপূর্ণ অধিকারসমূহের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। যার ইসলাম গ্রহণ ও বংশ নিশ্চিত হবে, তিনিই শুধু এই অধিকারসমূহের অধিকারী হবেন। সুতরাং তাঁদের জন্য এই বিষয়টি জরুরী এবং উত্তম আমলও জরুরী। শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ(ﷺ) এর বংশের লোক বলে যে তাঁরা কোন আমল না করেই পার হয়ে যাবেন ব্যাপারটি ঠিক তা নয়।
রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বংশের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিকে সতর্ক করতেন। যেমন মক্কার এক প্রসিদ্ধ ঘটনায় নবী (ﷺ)বলেন:

‘‘আবু হুরাইরা(রা) বর্ণনা করেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলো, ‘নিজের ঘনিষ্টতম আত্মীয়স্বজনকে ভয় প্রদর্শন করো’ (সূরা আশ-শুআরাঃ ২১৪) তখন রাসূলুল্লাহ(ﷺ) কুরাইশদের ডাকলেন। তাতে সাড়া দিয়ে ছোট-বড়, উচ্চ-নীচ, ইতর-ভদ্র সবাই এক স্থানে জড়ো হলো।
তিনি সবার উদ্দেশ্যে বললেনঃ ‘হে ‘আবদে শাসমের বংশধর! হে কা’ব ইবনে লুয়াইর বংশধর! নিজেদেরকে আগুনের সাজা থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করো। হে আবদে মান্নাফের বংশধর! নিজেদেরকে আগুনের সাজা থেকে বাঁচাও। হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর! নিজেদেরকে আগুনের সাজা থেকে বাঁচাও। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদেরকে বাঁচানোর মালিক আমি নই। (আমার অবস্থান) শুধু এটুকুই যে, তোমাদের সাথে (আমার) আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আমি (দুনিয়ায়) এর হক আদায়ের চেষ্টা করবো। ”
[মুসলিম, রিয়াদুস সলিহীন, বই ১, হাদিস ৩২৯]
আর আবু লাহাবের ব্যাপারে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা তো সকলেই জানে। আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ চাই।

নাসেবিদের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের(সুন্নী) অবস্থান:

====================================================

যে কেউ নবী পরিবারের সাথে শত্রুতা করে, সে নাসেবি[বহু বচনঃ নাওয়াসিব (النواصب)]-বলে গণ্য। আলী (রা) ও তাঁর সন্তানদের প্রশংসায় ইসলামী চিন্তাবিদদের বক্তব্য পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট। আমাদের আকিদা হচ্ছে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী, হাসান ও হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) নিয়ামতে ভরপুর জান্নাতের অধিবাসী। এটা পরিষ্কার কথা। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

এখানে নাওয়াসিব ( نواصب) প্রসঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অবস্থান এবং আহলুস সুন্নাত যে নাওয়াসিব (نواصب)-এর চিন্তাধারা থেকে মুক্ত, সে দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ মাস’আলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস’আলা। কারণ, এটা উম্মতের মধ্যে বহু দলে বিভক্তি ও মতানৈক্যের কারণ। এমন দল বা উপদল পাওয়া যায়, যারা এইসব ফেরকাবাজীর মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা হাসিল করে, তারা কারণে অকারণে আলোচনা করে কী কারণে এসব ফেরকা বা বিরোধের আগুন জ্বলে উঠে এবং তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকটি কথা বিরোধের আগুনকে আরও শানিত ও বেগবান করে। আর এসব কথা হচ্ছে নির্ভেজাল অপবাদ ও ডাহা মিথ্যা।

নাসেবি{আলী(রা) ও আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণকারী} প্রসঙ্গে আহলুস সুন্নাতের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার এবং শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া(র)-এর বক্তব্য উপস্থাপন করাই যথেষ্ট। আহলুস সুন্নাতের এই আলেমকে শিয়া সম্প্রদায় এবং তাদের দোসর মাজারপন্থী বিদআতী সুন্নীরা তাদের সবচেয়ে বড় দুশমন মনে করে। আর তিনি শিয়াদের জবাবে বড় এক সুন্নী বিশ্বকোষ রচনা করেছেন।

ইবন তাইমিয়া(র)বলেন: আলী (রা)-কে গালি ও অভিশাপ দেওয়া বিদ্রোহ বা সীমা লংঘনের শামিল। যে গোষ্ঠী এই কাজটি করবে, তাদেরকে বলা হবে বিদ্রোহী দল বা গোষ্ঠী ( الطائفة الباغية); যেমন ইমাম বুখারী (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইকরামা থেকে (পূর্ণ সনদে) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: ইবনু আববাস (রা) আমাকে ও তাঁর পুত্র আলীকে বললেন, তোমরা আবু সা‘ঈদের নিকট যাও এবং তাঁর থেকে হাদিস শোন! আমরা গিয়ে দেখলাম তিনি প্রাচীর সংস্কার করছেন। তিনি তাঁর চাদর দিয়ে শরীর পেঁচিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা শুরু করলেন; যখন মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গ আসল, তখন তিনি বললেন: আমরা এক ইট এক ইট করে বহন করতাম, আর ‘আম্মার দুই ইট দুই ইট করে বহন করত। অতঃপর নবী (ﷺ) তাঁকে দেখলেন এবং তাঁর থেকে ধূলিবালি ঝেড়ে ফেলেন আর বলেন:
‘‘আফসোস আম্মারের জন্য, তাঁকে এক বিদ্রোহী দল হত্যা করবে; সে তাদেরকে জান্নাতের দিকে ডাকবে, আর তারা তাঁকে জাহান্নামের দিকে ডাকবে।’’ বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে আম্মার বলল: আমি সকল প্রকার ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
.
ইমাম মুসলিম (র)ও আবু সা‘ঈদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবু কাতাদা (আমার চেয়ে যিনি উত্তম) আমাকে সংবাদ দেন যে, আম্মার (রা) যখন পরিখা খনন করা শুরু করেন, তখন তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মাথা মুছতে মুছতে বললেন:
‘‘সুমাইয়ার ছেলের জন্য কষ্ট, তোমাকে এক বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।’’
.
ইমাম মুসলিম (র) আরও বর্ণনা করেন উম্মে সালমা (রা) থেকে । তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:
‘‘আম্মারকে এক বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।’’
.
এসব দলীলও আলী (রা)-এর নেতৃত্বের বিশুদ্ধতা ও তাঁর আনুগত্য করার অপরিহার্যতার উপর প্রমাণ করে। আর যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্যের দিকে আহ্বানকারী, সে জান্নাতের দিকে আহ্বানকারী; আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে যুদ্ধ করার দিকে আহ্বানকারী, সে জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী। যদিও সে ভিন্ন ব্যাখ্যাদানকারী বা কল্যাণকামী হোক না কেন। এটাই তার প্রমাণ যে, আলী (রা)-এর সাথে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না। (আর এর উপর ভিত্তি করে দুই শ্রেণীর যোদ্ধা- কেউ ভিন্ন ব্যাখ্যা করে ভুলক্রমে তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছে; আবার কেউ বিনা ব্যাখ্যায় বিদ্রোহী হিসেবে যুদ্ধ করেছে।) আমাদের নিকট দুই কথার মধ্যে এটাই বিশুদ্ধ। আর তা হল, যে আলীর সাথে যুদ্ধ করেছে, সে ভুলে করেছে। আর এটাই ফকীহ ইমামদের মত, যারা এর উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ব্যাখ্যাকারী বিদ্রোহীদের যুদ্ধকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করেছেন।
[মাজমু‘ ফাতওয়া শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া(র) খ. ৪, পৃষ্ঠা ৪৩৭]

ইবন তাইমিয়া(র) এর নিম্নোক্ত কথাটি নিয়ে চিন্তা করুন:

ইয়াযিদ প্রসঙ্গে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, মাস’আলা সম্পাদনা এবং এ বিষয়ে সর্বসাধারণের ইখতিলাফ বর্ণনার পর তিনি (র) বলেন: ‘‘যে ব্যক্তি হুসাইনকে(রা) হত্যা করল; অথবা হত্যায় সহযোগিতা করল; অথবা হত্যায় সম্মতি জ্ঞাপন করল, তার উপর আল্লাহর লানত, সমস্ত ফেরেশতার লানত এবং সমস্ত মানুষের লানত।’’
[মাজমু‘ ফাতওয়া শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া(র) খ.৪, পৃষ্ঠা ৪৮৭। ]

সুতরাং এর পরও কোন খতীব বা আলেমের পক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের(সুন্নী) সমালোচনা করা সম্ভব হতে পারে কি যে, সে বলবে, তারা نواصب বা আলী (রা)-এর সাথে শত্রুতা পোষণকারী।

আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ শায়খ সালেহ ইবন আবদিল্লাহ আদ-দারওয়ীশ এর ‘রুহামা বাইনাহুম’ [ নবী-পরিবার ও অবশিষ্ট সাহাবীগণ পরস্পর সহানুভূতিশীল ] বইটি। আমি এখানে মূলত শায়খের গবেষণা ব্যবহার করেছি।


এটা পড়তে পারেন–হৃদ‌য়ে আঁ‌কি মহাম‌া‌নবের ছ‌বি

Facebook Comments